Haji Shariatullah ।। হাজী শরিয়তউল্লাহ

হাজী শরিয়তউল্লাহ (১৭৮১-১৮৪০)

Haji Shariatullah


জীবনী : হাজী শরিয়তউল্লাহ  তৎকালীন ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এর শাসনাধীন কালে  ফরিদপুর জেলার বাহাদুরপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন বাল্যকাল হতেই তিনি ছিলেন চিন্তাশীল। ধর্ম শিক্ষার উদ্দেশ্যে তিনি মক্কা গমন করেন। শাহ অলিউল্লাহ ও সৈয়দ আহম্মদ বেরেলভীর আদর্শ তাঁকে প্রভাবিত করেছিল ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন তেজস্বী, স্বাধীন চেতা,জনদরদী ও সুশিক্ষিতধর্মীয় সংস্কারক, নীলকর ও সামন্তবাদ বিরোধী নেতা এবং ভারতবর্ষে সংঘটিত ফরাজি 

আন্দোলনের মুখপাত্র তিনি শুধু ধর্মীয় সংস্কারক ছিলেন না, বরং কৃষক,তাঁতি এবং অন্যান্য শ্রমজীবী মানুষকে শোষণ থেকে মুক্ত করার জন্য সংস্কার আন্দোলন

পরিচালনা করেছিলেনতিনি চেয়েছিলেন মুসলমানদের মাঝে দিনে দিনে যে ধর্মীয় কুসংস্কার প্রবেশ করেছে তা উচ্ছেদ করে তাদের ইসলামের মূল অবস্থায়

ফিরিয়ে আনতেমুসলিম ধর্মের উৎপীড়নমূলক নিয়ম বন্ধ  করে ভন্ড মোল্লা মৌলবীদের হাত থেকে তার শিষ্যদের রক্ষা করেন একারণে রক্ষণশীল ধনী 

মুসলমানগণেরা তাকে ঢাকা থেকে বিতাড়িত করে। ফরিদপুর ও ঢাকা জেলার অসংখ্য কৃষক তার শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছিল।

 
ফরাজি আন্দোলন:  ১৭৯৯ সালে ১৮ বছর বয়সে মক্কা গমনের সময় বাংলার জনগণ ছিল নীলকরদের দ্বারা মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতিত। তিনি আরবে 

অবস্থানকালে সৌদি শক্তির  ওয়াহাবি আন্দোলন দ্বারা অনুপ্রাাণিত হয়েছিলেন ১৮১৮ সালে দেশে ফিরে তিনি আরবের তৎকালীন ওহাবী আন্দোলনের অনুরূপ 

ইসলামি সংস্কার আন্দোলন শুর করেনইসলাম ধর্ম সংস্কারের উদ্দেশ্যে হাজী শরিয়তউল্লাহ ১৮২০ খ্রিস্টাব্দে ' ফরাজি' নামে এক ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠা করেন

 যা পরবর্তীকালে ফরাজি আন্দোলন নামে পরিচিতি পায় ( 'ফরাজি' শব্দটি আরবি শব্দ 'ফরজ' থেকে এসেছে ।)ফরজ শব্দের অর্থ হল 'আল্লাহ কর্তৃক নির্দেশিত 

বাধ্যতামূলক কর্তব্য' এচিন্তা থেকেই তার সংস্কার আন্দোলনের নাম হয় 'ফরায়েজি আন্দোলন 'ফরায়েজি আন্দোলনের প্রবক্তা ছিলেন হাজী শরীয়তুল্লাহ 

হাজী শরীয়তুল্লাহ মুসলমানদের মধ্যে শিক্ষা, সংস্কৃতি, ধর্মচর্চা প্রভৃতি বিষয়ে ব্যাপক  অধঃপতন লক্ষ করেন। তিনি উপলব্ধি করেন, মুসলমানরা ইসলামের 

ফরজ বিধানগুলো ঠিকমতো পালন না করলে তাদের সার্বিক অবস্থার উন্নতি হবে না।মুসলমানদের ইমানি শক্তি বৃদ্ধি করে ব্রিটিশদের অন্যায়-অপশাসনের

 প্রতিবাদ করার জন্য তাদের  তৈরি করা ছিল তার লক্ষ্য।

Farazi Andolon


    ঊনিশ শতকে বাংলায় সংঘটিত কৃষক-বিদ্রোহগুলির মধ্যে অন্যতম ছিল ফরাজি আন্দোলন। ব্রিটিশ শাষিত ভারতে মুসলিমদের জন্য বসবাসের যোগ্য নয়। সমস্ত মুসলমানকে তিনি ইসলামের আদি ও অকৃত্রিম আদর্শ মেনে চলার জন্য আবেদন জানানকোরানের একেশ্বরবাদে বিশ্বাসী হয়ে তিনি কলমা 

(আল্লার প্রতি বিশ্বাস), নামাজ (আল্লার উদ্দেশ্যে প্রার্থনা), রোজা (উপবাস), হজ (তীর্থযাত্রা) ইত্যাদি ধর্মাচরণের নির্দেশ দেন। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি

নির্বিচারে কৃষকশ্রমিকদের অধিকার কেড়ে নিচ্ছে, সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করছে, অপরাধীদের প্রশ্রয়  দিচ্ছে এসব বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি করা ছিল 

এই আন্দোলনের মুখ্য উদ্দেশ্য। জনগণ তার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সব অত্যাচার-শোষণের বিরুদ্ধে রুখে দাড়ায়। 


পরিশেষ : হাজী শরীয়তুল্লাহর আন্দোলনের বৈশিষ্ট্য হলো, তিনি ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ সংগ্রামের ডাক দেন নি বরং তিনি চেয়েছিলেন ধর্মীয়

জীবনে পরিশুদ্ধির মাধ্যমে মুসলমানরা যেন নিজেদের অস্তিত্ব ধরে রাখতে পারে। শরীয়তুল্লাহ'র নামানুসারে বাংলাদেশের শরীয়তপুর জেলার 

নামকরণ হয়েছে। এছাড়া তার নামে মাদারীপুরের শিবচরে আড়িয়েল খাঁ নদের উপরে নির্মিত সেতুর নামকরণ  হয়েছে হাজী শরীয়তুল্লাহ সেতু নামে।

১০ মার্চ ১৯৯৩ সালে তাঁর নামে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ ডাকটিকিট বের করে।


শাহনেওয়াজ সেরাজ সুবর্ণা
ইন্সট্রাক্টর অফ আর এস ডিপার্টমেন্ট
ড্যাফোডিল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট

সোর্স: গুগল।

Comments

Sign in to comment