When communicating remotely, use engineering and technology/ যোগাযোগ যখন দুরবর্তী, ব্যবহার হবে প্রকৌশল এবং প্রযুক্তি

সিগনাল মানে সংকেত। মানুষের মনের ভাব প্রকাশের অন্যতম এবং সর্বোত্তম মাধ্যম ভাষা। মুখ নিঃসৃত অর্থবহ ধ্বনি। গতানুগতিক ব্যবহৃত ভাষা ব্যবহার না করেও কিন্তু সাংকেতিক ভাষা ব্যাবহার করে আমরা মনের ভাব প্রকাশ করতে পারি।
একটা মজার উদহরন দেই- দুষ্ট ছেলের দল রাতের বেলা দুষ্টুমি করে পেয়ারা গাছ থেকে পেয়ারা চুরি করতে গিয়েছে। এবার একজন গাছে উঠেছে আরেকজন একটি ছোট মিনি টার্গেট লাইট নিয়ে দূর থেকে পাহারা দিচ্ছে, কেউ চলে আসে কি,না তা দেখার জন্য। তাদের মধ্যে একটি সাংকেতিক ভাষা তৈরি হলো। যদি আমি পর-পর ২ বার হলুদ বাতির লাইট জ্বালাই তাহলে বুঝে নিবে কেউ চলে আসছে, ঘাপটি মেরে বসে থাকো।
যদি পর-পর একবার হলুদবাতি আর একবার লালবাতি জ্বলাই তাহলে বুঝে নিবে যে, সে পেয়ারা গাছের দিকে অগ্রসর হচ্ছে, পালানোর প্রস্তুতি নাও। আর যদি দুইবারই লালবাতি জ্বালাই তাহলে সোজা দৌড় দিবে। হাহ হাহ হাহ হাহ হা... দেখো লাইটের সংকেত দিয়েও কিন্তু মনের ভাব   প্রকাশ করা গেল।


 
ধরো, দুরবর্তী যোগাযোগ ক্ষেত্রে আমারা আমাদের মুখ নিঃসৃত ধ্বনিকে অর্থাৎ সাউন্ড সিগনালকে যদি ইলেক্ট্রিক্যাল সিগনালে রূপান্তর করি, তাহলে সহজেই তারের মাধ্যমে বৈদ্যুতিক সিগনাল হিসেবে এটাকে দূরে কোথাও পাঠিয়ে দিতে পারব। অপর প্রান্তে এই বৈদ্যুতিক সিগনালকে পুন:রায় সাউন্ড সিগনালে রূপান্তর করে শ্রবণযোগ্য করা সম্ভব। হয়ে গেল যোগাযোগের একটি উপায়।


এরকম বিভিন্ন ধরনের যোগাযোগের উপায় হতে পারে। যেমন তার বিহীন অর্থাৎ ক্ষুদ্র এরিয়ায় ওয়ারলেস যোগাযোগ মাধ্যম। সেলুলার যোগাযোগ পদ্ধতি ইত্যাদি।  যে কোন একটি সিগনালকে সাউন্ড সিগনাল, ইলেকট্রিক্যাল সিগনাল এবং আলোক সিগনাল সহ বিভিন্ন ধরনের সিগনালে রূপান্তর করা যায়। প্রযুক্তি ব্যাবহার করে আমরা খুব সহজে এক সিগনালকে অন্য সিগনালে রূপান্তর করতে পারি। সুবিধামত সেই সিগনাল দুরবর্তী স্থানে প্রেরন করতে পারি।
ইলেক্ট্রিক্যাল সিগনাল আমরা বৈদ্যুতিক তারের মাধমে বহুদুরে প্রেরন করতে পারি। আবার আলোক সিগনালকে আমরা অপটিক্যাল ফাইবারের মাধ্যমে বহুদুরে প্রেরন করতে পারি। পরবর্তীতে আবার সেই সিগনালকে বিশেষ প্রযুক্তি বা টেকনোলজি ব্যাবহার করে সাউন্ড সিগনালে রূপান্তর করে আনতে পারি। 
মনে করো তুমি দূরে কোথাও কোন কথা বা বানী, শব্দ বা ভয়েস সিগনাল আকারে প্রকাশ করেছ, তোমার সেই ভয়েস তথা সাউন্ড সিগনাল অনুরূপ অন্য কোন সিগনালে রূপান্তরিত করে সুবিধাজনক মাধ্যম দিয়ে পরিবহন করে বহুদুরে থাকা অন্য ব্যাক্তির নিকট পৌছাবে। অত:পর সেই সিগনাল পুন:রায় সাউন্ড সিগনালে রূপান্তর করে শ্রবণযোগ্য করে দেয়া হয়।


তোমার দেয়া ভয়েস বা সাউন্ড সিগনালটি হচ্ছে বার্তা, এই বার্তাকে পরিবহন করার জন্য উপযোগী করে দেয় যে ডিভাইস তার নাম ট্রান্সমিটার, অত:পর যে মাধ্যমে বার্তা বহন হয় তা হচ্ছে চ্যানেল (উদহরনস্বরূপ বৈদুতিক তার,অপ্টিক্যাল ফাইবার, বাতাস ইত্যাদি)। সিগনালকে রিসিভ করে পুনরায় সাউন্ড সিগনালে রূপান্তর করে দেয় যে ডিভাইস তার নাম রিসিভার। তাহলে দুরবর্তী যোগাযোগের জন্য প্রয়োজন
বার্তা উৎস-ট্রান্সমিটার-চ্যানেল-রিসিভার-বার্তার গন্তব্য

দুরবর্তী কোন স্থানে বার্তা পাঠাতে হলে বার্তা সংকেত অর্থাৎ মেসেজ সিগনালকে শক্তিশালী কোন সিগনালের সাথে যুক্ত করে পাঠাতে হয়। এই শক্তিশালী সিগনালকে বলা হয় ক্যারিয়ার সিগনাল বা বাহক সংকেত। বাহক সংকেতের সাথে বার্তা সংকেতকে যুক্ত করার এই বিষয়টিকে বলা হয় মডুলেশন। মডুলেশন খুবই জরুরী কেননা আমাদের এই বার্তা বা মেসেজ সিগনালটি অত্যন্ত দুর্বল হওয়ায় দুরবর্তী স্থানে পরিবহন করতে গিয়ে হারিয়ে যাবে বা নষ্ট হয়ে যাবে। শক্তিশালী সিগনালের সাথে যুক্ত করে পাঠালে আমাদের বার্তা সিগনালটি থাকবে অক্ষত এবং নিরাপদ। অত:পর দুরপ্রান্তে রিসিভারের মাধ্যমে রিসিভ করে, মডুলেটেড সিগনাল হতে বাহক সিগনালকে অপসারণ করে মুলবার্তা সিগনালকে গ্রহন করা হয়। এই   প্রক্রিয়াটির নাম ডিমডুলেশন।
বার্তাকে শক্তিশালী করার জন্য প্রয়োজন মডুলেশন. মডুলেশনকৃত সিগনাল হতে মূল বার্তাকে পুনরায় ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজন ডি-মডুলেশন।

 

মডুলেশন এবং ডি-মডুলেশন বিষয়টিকে আরো একটু পরিষ্কার করে বুঝানোর চেষ্টা করছি-


ধরো তুমি একটা কাগজে কোন কিছু লিখেছ -পাশের বাসার ছাদের তোমার কোন বন্ধুকে এই লিখিত বার্তাকে পাঠাতে চাও। এই কাগজ পাশের বাসার ছাদে কোন ভাবেই পৌছাবেনা। উড়ে অন্য কোথাও যাবে হারিয়ে।


তাই কাগজের সাথে একটি পাথর বেধে পাশের বাসার ছাদে নিক্ষেপ করলে এবার খুব সহজেই বার্তাটি যথাযথ স্থানে পৌছাবে। অত:পর তোমার বন্ধু এই কাগজের সাথে যুক্ত পাথরকে আলাদা করবে এবং কাগজটি গ্রহন করবে।


কাগজের সাথে পাথর যুক্ত করা এই বিষয়টিই মডুলেশন। কাগজ হতে পাথর পৃথকের বিষয়টিই হচ্ছে ডিমডুলেশন।
(কাগজটিকে ধরো বার্তা সিগনান এবং পাথরটিকে ধরো বাহক সিগনাল)


মোবাইল যোগাযোগে তোমার মুখ হচ্ছে বার্তার উৎস, হ্যান্ডসেটে রয়েছে একটি ট্রান্সমিটার এন্টেনা তথা টাওয়ারের মাধ্যমে চলে যায় দুর দুরান্তে। আর এই বার্তা অতঃপর আরেকজন ব্যাক্তি একটি হ্যান্ডসেটের রিসিভারের মাধ্যমে তোমার বার্তাটিকে রিসিভ করে, এবং তার কান হচ্ছে বার্তার গন্তব্য।


তাহলে উপরোক্ত আলোচনা থেকে বলতে পারি দুরবর্তী যোগাযোগের জন্য প্রয়োজন
বার্তা উৎস-ট্রান্সমিটার-চ্যানেল-রিসিভার-বার্তার গন্তব্য
 


আশা করছি দুরবর্তী স্থানে যোগাযোগের ব্যাসিক বিষয়টি বুঝাতে পেরেছি। টেলিকমিউনিকেশন এর বিষয় সম্পর্কে আরো ভাল জানতে পড়তে পারো ড্যাফোডিল পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটে, ডিল্পোমা ইন টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং। 
দক্ষ প্রকৌশলী হয়ে দেশ সেবায় নিয়জিত হও এই প্রত্যাশায়।


লেখক
নাহিদুল ইসলাম (নাহিদ)
বিভাগীয় প্রধান
ইলেক্ট্রকাল টেকনোলজি
ড্যাফোডিল পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট

Comments

Sign in to comment