শহর,বন্দর,গ্রামে সর্বত্রই বিদ্যুৎ এক দুর্দান্ত শক্তি, এই শক্তিকে বুঝতে প্রয়োজন, মজার মজার যুক্তি / There is a great energy, everywhere in the port, village, and city. Some Funny arguments that need to

বিদ্যুৎ এক প্রকার শক্তি বা এনার্জি কাজ করার সামর্থকে শক্তি বলে সুতরাং বিদ্যুতের মাধ্যমে অসংখ্য কাজ করানো সম্ভব বিদ্যুৎ শক্তিকে বিভিন্ন শক্তিতে রুপান্তর করে আমরা আমাদের বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করে থাকি  যেমন বিদ্যুৎ শক্তি তাপ শক্তিতে রুপান্তর হয়,(বৈদ্যুতিক হিটার), শব্দ শক্তিতে রুপান্তর হয় (লাউড স্পিকার) , আলোক শক্তিতে রুপান্তর হয় (বৈদ্যুতিক বালব), যান্ত্রিক শক্তিতে রুপান্তর হয় (বৈদ্যুতিক পাখাইত্যাদি এই শক্তিকে আবিষ্কার এবং কাজে লাগানোর জন্য বিজ্ঞানীরা যুগের পর যুগ অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন

 
কারেন্ট হচ্ছে ইলেকট্রনের বেগ ইলেকট্রন প্রবাহের হারকে কারেন্ট বলে  সহজ করে বলি,
বেগ হল, সময়ের সাপেক্ষে কোন বস্তুর সরনের হার বিদ্যুৎকে তোমাদের কাছে সহজ ভাবে উপস্থাপনের জন্য আমি পানির উদহরন দিচ্ছি ধরো একটি ড্রামে ১০ লিটার পানি আছেউক্ত ড্রামে একটি পাইপ সংযুক্ত আছে ড্রামের সম্পুর্ন পানি পাইপটি দিয়ে নির্গত হতে সময় লাগল  সেকেন্ড তাহলে বলোতো পানির বেগ কত?? নিশ্চয়ই বলবে লিটার সেকেন্ড

 অর্থাৎ পানির বেগ =  প্রবাহিত মোট পানিসময় 
= ১০ লিটার সেকেন্ড 
 
 লিটার/সেকেন্ড

তাহলে,বলোতো  সেকেন্ডে ১০ কুলম্ব চার্জ সরে গেল বা স্থানান্তরিত হল তাহলে চার্জের বেগ কত হবে?
নিশ্চয়ই বলবে  কুলম্ব চার্জ / সেকেন্ড  বা  অ্যম্পিয়ার. (চার্জের বেগকে কারেন্ট বলে, এর প্রতিক I , 
এবং একক অ্যম্পিয়ারসুতরাং কারেন্ট I = Q t 
  (এখানে  I = চার্জের বেগ বা কারেন্টQ= চার্জt = সময়)
চার্জের একক কুলম্ব এক কুলম্ব হচ্ছে  6.25 X 1018 টি ইলেকট্রনের আধানের সমান বা ৬২৫০০০০০০০০০০০০০০০০ গুলো ইলেকট্রন 


তুমি বাজারে গিয়ে দোকানদারকে বললে ভাই আমাকে ৫০০ লাখ চাল দিন তো দোকানদার নিশ্চয়ই তোমাকে পাগল বলবে তোমাকে বলতে হবে  কেজি চাল দেনবা  কেজি চাল দেন
 কেজি চালে হয়ত অনেক চালের দানা থাকবে আমরা আমাদের সুবিধার জন্য কেজিকে একক হিসেবে ধরে নিয়েছি ঠিক তদ্রুপ অনেক সংখ্যক ইলেকট্রন কে নিয়ে একটি একক নির্ধারিত হল 

 কুলম্ব = ৬২৫০০০০০০০০০০০০০০০০ গুলো ইলেকট্রন

 

ইলেকট্রন গুলো যখন স্থানান্তরিত হয় তখন একটি নির্দষ্ট বেগে প্রবাহিত হয় ইতিমধ্যেই আমরা জানলাম এই বেগকে কারেন্ট বলে চাপের প্রভাবে এই বেগ তৈরি হয় বৈদ্যুতিক ক্ষেত্রে এই চাপকে বলে ভোল্টেজ চাপ যত বাড়বে বেগ তত বাড়বে মানে ভোল্টেজ বাড়লে কারেন্ট বাড়ে

 

  

একটি উদহরন দেই একটি সিরিঞ্জে পানি নাও এবার পুশ করোযত বেশি চাপ প্রয়োগ করবে সিরিঞ্জের নল দিয়ে তত দ্রুত বেগে পানি প্রবাহিত হবে তদ্রুপ বৈদ্যুতিক ক্ষেত্রে যত বেশী ভোল্টেজ প্রদান করবে তত বেশী কারেন্ট পাওয়া যাবে

এনার্জি এবং পাওয়ার:- কাজ করার সামর্থ্যকে শক্তি বা এনার্জি বলে
একক সময়ে ব্যায়িত শক্তিকে বা শক্তি ব্যাবহারের হারকে পাওয়ার বা ক্ষমতা বলে
ধরো নাহিদ স্যার ১০০ টি ইট স্থানান্তরিত করতে পারে  এরপর উনি ক্লান্ত হয়ে যান তিনি আর কাজ করতে পারেন নাতাহলে নাহিদ স্যারের শক্তি বা এনার্জি হল ১০০ টি ইট
নাহিদ স্যারের ১০০ টি ইট স্থানান্তর করতে সময় লাগল ১০ ঘন্টা 

তাহলে ক্ষমতা = ১০০ ১০   = ১০ টি ইট /ঘন্টা
তোমার হয়ত এই ১০০ টি ইট স্থানান্তর করতে  ঘন্টা সময় লাগবে তাহলে তোমার ক্ষমতা হবে
= ১০০  
  = ২০ টা ইটঘন্টা
তাহলে এনার্জি এবং পাওয়ারের মাঝে নিশ্চয়ই পার্থক্য বুঝতে পেরেছ
মোট এনার্জি বা শক্তিকে সময় দ্বারা ভাগ দিলে পাওয়ার বা ক্ষমতা পাওয়া যায়
পাওয়ার  এনার্জিসময় 
 
সুতরাং এনার্জি = পাওয়ার × সময়
মনে করো ১০০ ওয়াট পাওয়ারের একটি বালব ১০ ঘন্টা ধরে ব্যাবহার হলো তাহলে 

এনার্জি১০০×১০
          = ১০০০ ওয়াট-ঘন্টা বা  ইউনিট
বৈদ্যুতিক এনার্জির বাণিজ্যিক একক ইউনিট ( ইউনিট = ১০০০ ওয়াট-ঘন্টা)

১০০ ওয়াটের বালব ২০ ঘন্টা ব্যাবহার হলে ব্যায়িত এনার্জি = ১০০×২০
                                                                                    = ২০০০ ওয়াট-ঘন্টা বা  ইউনিট
এইভাবে তুমি তোমার বাসার বিদ্যুৎ বিল বের করে নিতে পারবে বিদ্যুৎ বিল নিয়ে আমার আরেকটি ব্লগ লিখা হয়েছে পড়ে নিও

 

এতক্ষনের আলোচনায় আমরা বুঝলামপাওয়ারএনার্জি এবং সময়ের সাথে সম্পর্ক হচ্ছে 

পাওয়ার = এনার্জিসময়  এবার পাওয়ারকে আরেকভাবে সম্পর্ক দেখিয়ে তোমাদের বুঝানোর চেষ্টা করছি,

          পাওয়ার  কাজ সময়    
              P =  VQ 
   [কাজ = বলসরন = V×Q (V= চাপে, Q =কুলম্ব চার্জের সরন হল)]
                 P = V I ( 
  চার্জের বেগ অর্থাৎ কারেন্টকে "I" দ্বারা প্রকাশ করা হয়)
                 P = VI

সুতরাং  I =   (পাওয়ারকে ভোল্টেজ দ্বারা ভাগ দিলে কারেন্ট পাওয়া যায়)
তোমার মনে হয়ত মাঝে মাঝেই প্রশ্ন জাগে এই যে ফ্যানবালবটেলিভিশন ব্যবহার করছ কোন ডিভাইসে কতটুকু কারেন্ট প্রবাহিত হয়?? খুব সহজেই তুমি তা হিসেব করে বের করতে পারো

 


মনে করো একটি ১০০ ওয়াটের বালব তোমার রুমে ব্যবহৃত হচ্ছে সুতরাং এর কারেন্ট হবে
I= ১০০/২২০ (বাংলাদেশের আবাসিক সরবরাহ ভোল্টেজ ২২০ ভোল্ট)
=.৪৫ অ্যম্পিয়ার
অনুরুপভাবে তোমার বাসায় ব্যবহৃত যে কোন লোড,এপ্লায়ান্সের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত কারেন্ট হিসেব করে বের করতে পারবে পাওয়ারকে সরবরাহ ভোল্টেজ ২২০ দিয়ে ভাগ দিবে

আজ তোমাদের বিদ্যুৎভোল্টেজকারেন্টচার্জপাওয়ারএবং এনার্জি ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করলাম এই আলোচনায় রুপক অর্থে আমি বিভিন্ন কিছুকে উদহরন হিসেবে নিয়ে এসেছি যেমন পানি ভর্তি ড্রামচালের বস্তাইটের কাজ এসব উদহরন দিয়ে আমি চেষ্টা করে গেলাম বিদ্যুৎকে সহজ ভাবে তোমাদের সামনে উপস্থাপন করতে বিদ্যুৎ কোন দাতের মাজন নয়  এক মহা-শক্তি এই শক্তিকে জানো এই শক্তিকে কাজে লাগাও তড়িৎ প্রকৌশল নিয়ে অধ্যয়নরত আমার প্রাণপ্রিয় শিক্ষার্থীরা তোমাদের সহযোগিতায় এই শক্তি ব্যাবহারে দেশের উন্নয়ন বহুগুন ত্বরান্বিত হোক এই প্রত্যাশায়-

লেখক-
নাহিদুল ইসলাম (নাহিদ)
বিভাগীয় প্রধান
ইলেকট্রিক্যাল টেকনোলজি
ড্যাফোডিল পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট

ড্যাফোডিল পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট

 

Comments

Sign in to comment