ওয়েবসাইট এর মাধ্যমে গুগল এ নাম্বার ওয়ান হওয়ার উপায় (The way to become number one in Google through the website)

  

 

ওয়েবসাইট এর মাধ্যমে গুগল এ নাম্বার ওয়ান  হওয়ার উপায়  (The way to become number one in Google through the website) গুলুর মধ্যে ওয়েবসাইট এর ওনপেজ-অফপেজ এর কাজ, ওয়েবসাইট এর টেকনিকাল পার্ট এর কাজ করা অতন্ত জরুরী । তাই  যেকোনো ওয়েবসাইট কে গুগোলের নাম্বার অন পেজ এ নিয়ে আসতে অনেক গুলো SEO টেকনিক এপ্লাই করার প্রয়োজন হয়।  SEO নিয়ে  ধারাবাহিক ব্লগের জন্য  “ ওয়েবসাইট এর মাধ্যমে গুগল এ নাম্বার ওয়ান  হওয়ার উপায়  (The way to become number one in Google through the website) “ বিষয় টি বেছে নিয়েছি। আমি মনে করি বিষয় টি যুগ উপ যুগী- তাই যারা ওয়েবসাইট কে গুগল এর প্রথম পেজ এ আনতে চান SEO টেকনিক গুলি এপ্লাই  করে সহজে গুগল এর প্রথম পেজ এ আনতে পারা যায়। 

 

একটি ওয়েবসাইট সঠিক ভাবে চলছে কিনা এটি বিবেচনা করার অন্যতম একটি মাধ্যম ওয়েবসাইটের বাউন্স রেট । ওয়েবসাইটের বাউন্স রেট দেখে  পরিষ্কার ধারনা পাওয়া যেতে পারে যে, সাইট টি কেমন করছে এবং ভবিষৎ এ কেমন করবে। 

 

On-Page SEO (অনপেজ এসইও) , অনেকেই আমরা এই বিষয়টাকে হালকা ভাবে দেখি। একটা ওয়েবসাইট যখন তৈরি করি তখন শুধু ডিজাইন কেই আমরা গুরুত্ব দেই, কিন্তু আমাদের এটা মনে রাখা উচিৎ যে ডিজাইন এর পাশাপাশি আমাকে গুগল এর ওয়েবমাস্টার রুলস/নিয়ম মেনে সাইট তৈরি করতে হবে।

অন-পেজ অপ্টিমাইজেশন, একটি ওয়েব পেজ রাঙ্কইং এর জন্য 40% থেকে 50% গুরুত্ব বহন করে। On-page SEO (অন পেজএসইও) এর মূলত  এর  ৪ টি দিকের প্রতি অধিক গুরুত দিয়ে থাকে।

 

SEO-Friendly URLs

Right Set of Keywords

Responsive Design and site speed

Content optimization

 

যখন অন-পেজ এসইও বিষয় নিয়ে ভাবি, তখন নিশ্চিত যে আমরা মেটা ট্যাগ(meta tag), কীওয়ার্ড অপটিমাইজেশন(keyword optimization), robots.txt, সাইটম্যাপ(sitemap), ইমেজ অপ্টিমাইজেশান(image optimization) সম্পর্কে খুব ভালভাবে পরিচিত।

 

On-Page SEO এর জন্য যে বিষয় গুলির দিকা নজর দেওয়া প্রয়োজন তা হোল-

 

সঠিক পেইজ টাইটেল ব্যবহার করা 

সঠিক পেইজ ​URL ব্যবহার করা 

মেটা ডেসক্রিপশন ​এ গুরুত্ব দেয়া

ছবিতে ALT Text দেয়া

Heading Tag সঠিক ভাবে ব্যবহার  করা

​ইন্টার্নাল লিংক / এক্সটার্নাল লিংক

​মোবাইল ফ্রেন্ডলি ডিজাইন থাকা

ধীর গতির ​পেজ লোডিং স্পিড

 

Off-Page SEO(অফপেইজ এসইও) ঃ 

 

অফসাইট এসইও(​Off-Site SEO) এর অন্য নাম অফপেইজ এসইও (Off-Page SEO)। সার্চ ইঞ্জিন রেজাল্ট পেজের (SERPs) ভালো রেঙ্কিং পাবার জন্য ওয়েবসাইটের বাইরে যেই কাজগুলো করা হয় তাই অফসাইট এসইও নামে পরিচিত । ইন্টারনেট জগতের জনপ্রিয় কিছু প্লাটফর্মে লিংক সাবমিট করা, ওয়েবসাইটের প্রচার করার মাধ্যমে অফপেইজ এসইও সম্পন্ন করা হয়ে থাকে ।

 

Off-Page SEO এর জন্য যে বিষয় গুলির দিকা নজর দেওয়া প্রয়োজন তা হোল-

 

ব্যাকলিঙ্ক (Banklink)

কমেন্ট লিংক (Comment Links)

ভিডিও শেয়ারিং (Video Sharing)

সোশ্যাল বুকমার্কিং (Social Bookmarking)

ইনফোগ্রাফিক সাবমিশন (Infographics)

ব্রোকেন লিংকস (Broken Links)

ফোরাম পোষ্টিং (Forum Posting)

প্রশ্ন-উত্তর সাইটের লিংক - Quora

গেস্ট পোস্ট (Guest Posting) ব্যাকলিংক

ডকুমেন্ট শেয়ারিং ব্যাকলিংক

ওয়েব ২.০

প্রাইভেট ব্লগ নেটওয়ার্ক (PBN) ব্যাকলিংক

 

 

 

 

 

Technical SEO (টেকনিকাল এসইও )ঃ Technical SEO রাঙ্কিং এ বড় পরিবর্তন আনতে পারে।  টেকনিকাল এসইও খুব একটা কঠিন বিষয় নয়। আজ আপনারদর সাথে টেকনিক্যাল SEO চেকলিস্ট দিবো ও তা নিয়ে আলোচনা করবো;

 

Technical SEO এর জন্য যে বিষয় গুলির দিকা নজর দেওয়া প্রয়োজন তা হোল-

 

ওয়েবসাইট স্ট্রাকচার এবং ডিজাইন (Website structure & Design)

পেজ লোডিং স্পীড (Page Loading speed)

মোবাইল ইউজেবিলিটি (Mobile Usability)

সাইটম্যাপ ও রোবট টেক্সট ফাইল আপলোড ( Sitemap & Robots.txt file upload)

এস এস এল সার্টিফিকেট (SSL certificate)

ফিক্সড ব্রোকেন লিংক(Fixed broken link)

Crawl এরর মুক্ত রাখা (Crawler error fixing)

ইউ আর এল স্ট্রাকচার (URL structure)

স্ট্রাকচার্ড ডেটা (Structured data)

থিন কনটেন্ট (Thin content)

ডুপ্লিকেট কনটেন্ট (Duplicate content)

ক্যানোনিকাল ট্যাগ(Canonical tags)

৪০৪ পেজ এরর মুক্ত রাখা (404-page error fixing)

৩০১ রিডাইরেক্ট (301 redirects)

 

 

ওয়েবসাইট এর মাধ্যমে গুগল এ নাম্বার ওয়ান  হওয়ার উপায় 

​ওয়েবসাইটের লোডিং স্পিড

​লোডিং স্পিড, ওয়েবসাইটের বাউন্স রেট বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। কোনো ওয়েবসাইট ৩ সেকেন্ডের মধ্যে লোড না নিলে ৩০% ভিজিটর ওই পেজ ভিজিট না করেই চলে যায়। অর্থাৎ ওয়েবসাইটের বাউন্স রেট কমাতে হলে শুরুতেই ওয়েবসাইটের লোডিং স্পিড ৩ সেকেন্ডের নিচে নিয়ে আসতে হবে।

 

 

কন্টেন্ট লেখার ব্যাপারে অধিক সতর্ক থাকা

​অনলাইন এবং SEO নিয়ে আমরা যারা কাজ করি তারা এই টার্ম টির সাথে খুব পরিচিত যে “Content is King” পুরো ওয়েবসাইটে কন্টেন্ট একটি গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে।যে কোন সাইটের কন্টেন্ট ভালো হলে ডিজাইন কোয়ালিটি মোটামুটি মানের হলেও ভিজিটর সাইটে থাকবে।

​তাই কন্টেন্ট লেখার সময় সতর্ক থাকা উচিত। কঠিন এবং দূর্বোধ্য শব্দ এড়ি চলা, এর সাথে লেখা সহজ ভাবে লেখা উচিত। তা না হলে ভিজিটর পোষ্ট পড়ে বিরক্ত হয়ে চলে যেতে পারে। 

 

 

বিষয়বস্তুকে কম ভীতি প্রদর্শন করার জন্য কিছু উপায় অবলোকন করা যেতে পারে :

  • শিরোনামের যথাযথ ব্যবহার
  • ঘন ঘন সাবহেডিংস
  • উপযুক্ত চিত্র
  • বুলেটযুক্ত তালিকা

​ইরিলেভেন্ট কীওয়ার্ড ব্যবহার না করা

একটা সময় ছিলো যখন ব্লাক হ্যাট টেকনিক ইউজ করে ইরিলেভেন্ট (অপ্রাসঙ্গিক) কীওয়ার্ডে সাইট র‌্যাংক করানো যেতো। এটা এখনো যায়, তবে এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। ধরা যাক, অনলাইন মার্কেটিং সম্পর্কিত একটি ব্লগ নিয়ে কাজ করছেন, কারো কাছে শুনলেন হেলথ রিলেটেড প্রোডাক্ট সেল করলে বেশ ভালো লাভ করা সম্ভব। এরপর যদি আপনি আপনার অনলাইন মার্কেটিং সম্পর্কিত ব্লগে হেলথ রিলেটেড কন্টেন্ট পোষ্ট করেন তাহলে হিতে বিপরিত হওয়ার সম্ভবনা ১০০%। কারন ভিজিটর আপনার ব্লগে আসবে অনলাইন মার্কেটিং সম্পর্কে জানতে এসে হেলথ সম্পর্কিত লেখা দেখলে ভিজিটর বাউন্সব্যাক করে চলে যাওয়ার সম্ভবনাই বেশি।  

 
 

 

 

 

​ইউজার এক্সপেরিয়েন্স

ইউজার এক্সপেরিয়েন্স যেকোনো ওয়েবসাইটের জন্যই খুব গুরুত্বপূর্ন। পুরো সাইটের ডিজাইন অবশ্যই ইউজার ফ্রেন্ডলি হওয়া চাই। যাতে করে একজন ভিজিটর কোনো ঝামেলা ছাড়াই ওয়েবপেজটি নেভিগেট করতে পারেন। কোনো কারনে ইউজার ইন্টারফেস খারাপ হলে ভিজিটর বেশি সময় ঐ পেজে থাকবে না ।

 

 

​ইন্টার্নাল লিংকিং তৈরি করা

​ভিজিটরকে সাইটে বেশি সময় আটকে রাখার অন্যতম একটি মাধ্যম হলো ইন্টার্নাল লিংকিং। ধরা যাক, কোন ওয়বেসোইটে SEO ক্যাটাগরিতে ৪টা পোষ্ট।

  • ​বেসিক এসইও
  • আউটরিচ
  • গেষ্টপোষ্ট
  • ব্যাকলিংক

এখন যদি বেসিক SEO আর্টিকেলে রিলেভেন্ট ওয়েতে লিংক তৈরি করা, অন্যপোষ্টগুলো যেমন আউটরিচ, গেষ্টপোষ্ট এবং ব্যাকলিংকের পোষ্ট গুলো ইন্টার্নাল লিংক করে দিলে। এরফলে যেটা হবে, ভিজিটর বেসিক SEO এর পাশাপাশি অণ্য ব্যাপার গুলো সম্পর্কেও জানতে আগ্রহী হয়ে লিংকে ক্লিক করবেন এবং আরো বেশি সময় সাইটে থাকবেন।

 

 

​অতিরিক্ত অ্যাড ব্যবহার না করা 

​বিজ্ঞাপন জিনিসটা সবসময়ই বিরক্তিকর। আপনি নিজের কাছেই নিজেকে জিজ্ঞেস করুন। বিজ্ঞাপন দেখতে আপনার কেমন লাগে? অবশ্যই উত্তর হবে বিরক্তিকর। অনেক সাইড দেখা যায় যারা হেডার, ফুটার, পোষ্ট সাউডবার থেকে শুরু করে সাইটে ২-৩ ইঞ্চি পর পর বিজ্ঞাপন দেয়। যা ভিজিটরের জন্য বিরক্তিকর। ওয়েবসাইটে যত কম বিজ্ঞাপন ব্যবহার করা যায় তত ভালো।

তারপর ও ইনকাম এর দিক থেকে বিজ্ঞাপন প্রয়োজন হলেও সেটা যেনো ভিজিটরের বিরক্তির কারন না হয় তা খেয়াল রাখতে হবে।  

 
 

 

 

​ভিজিটরদের অংশগ্রহনের ব্যবস্থা রাখা

যেকোনো ভাবে ওয়েবসাইটে ভিজিটদের অংশগ্রহনের ব্যবস্থা রাখলে সাইটের বাউন্স রেট বাড়ার চান্স কমে যায়। তা হতে পারে বিভিন্স পোল/সার্ভের মাধ্যমে। সাইটে কমেন্ট অপশন চালুর মাধ্যমেও ভিজিটর অংশগ্রহন বাড়ানো যায়। 

 

 

 

 

সাইটটিকে অনুসন্ধান করা সহজ করন

 

সাইটটিকে অনুসন্ধান করা সহজ করতে হবে। বাউল রেড কমিয়ে আনা অন্যতম আরেকটি বিষয় হচ্ছে ওয়েবসাইটকে খুব সহজেই খুঁজে পাওয়ার উপযোগী করে তৈরি করা।

 

 

মোবাইলের জন্য সাইটটিকে অপ্টিমাইজ করন

ওয়েবসাইটটি যাতে যে কোন ডিভাইস বা মোবাইলে খুব সহজেই দেখা যায় তার উপযোগী করে তৈরি করন। আজকাল সবাই মোবাইলের মাধ্যমে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ভিজিট করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। তাই যেকোন ওয়েব সাইটকে মোবাইলে ব্যবহার উপযোগী করে তৈরি করলে। ওয়েবসাইটের বাউন্স রেট অনেক কমানো যাবে।

 

 

এই উপায়গুলি ফলো করলে আশা করা যায় গুগলের এক নম্বর পেজ এ আসা সম্ভব এবং এটাকে কন্টিনিউ প্রসেসে যদি রাখা যায় তাহলে যে কোন ওয়েবসাইটকে  দ্রুত গুগলের এক নম্বরে অবস্থান করা এবং ধরে রাখা সম্ভব। আশা করি এই উপায়গুলি ফলো করলে উপকৃত হবেন ।

​ধন্যবাদ সবাইকে। ভালো থাকুন

 

মুহাম্মাদ সহিদুল ইসলাম

ইনস্ট্রাক্টর(কম্পিউটার)

ড্যাফোডিল পলিটেকনিক ইন্সস্টিটিউট

 

 

 

 

 

Comments

Sign in to comment