ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস এর ফুসফুস

 

 

ডায়োড

ডায়োড (ইংরেজিDiodeএকটি দুই প্রান্ত বিশিষ্ট ইলেক্ট্রনিক যন্ত্রাংশ যা বর্তনীতে কেবল মাত্র একদিকে তড়িৎকে প্রবাহ করতে সাহায্য করে 

 

ব্যবহার

ডায়োডের প্রচুর ব্যবহার রয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু ব্যবহার তুলে ধরা হলো:-

রেডিও সংকেত ডিমড্যুলেশন : বাতাস থেকে তথ্যকে পুনরুদ্ধার করার জন্য ডি মডুলেশন ব্যবহার করা হয় যেখানে ডায়োড থাকে 

শক্তির রূপান্তর : ডায়োড এর সাহায্যেবিদ্যুৎ থেকে আলো বা আলো থেকে বিদ্যুৎ অথবা তাপ থেকে বিদ্যুৎ পরিবর্তনের জন্য ব্যবহার করা হয়

অতিরিক্ত বিভবের থেকে সুরক্ষা

লজিক গেট : কোথাও অতিরক্ত ভোল্টেজ থাকলে তাহা যদি সোর্স থেকে প্রেরণ করা হয় এবং র্সোসে ফিরে না আসতে পারে এজন্য ডায়োড ব্যবহার করা হয় 

তাপমাত্রা নির্ণয় : তাপমাত্রা পরিমাপ করার জন্য ডায়োড ব্যবহার করা হয়

সৌর কোষ  আলোক-সংবেদী বর্তনীতে : আমরা সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন করার ক্ষেত্রে যে সোলার প্যানেল বসাই সেই সোলার প্যানেলে প্রতিটি সেলেই ডায়োড ব্যবহার করা হয় 

 

ইতিহাস

 

পদার্থবিজ্ঞানী ফার্দিনান্দ ব্রাউন ১৮৭৪ সালে ক্রিস্টালের রেকটিফাই করার ধর্মকে আবিষ্কার করেন। ১৯০৬ সালে খনিজ ক্রিস্টাল গ্যালেনা (লেড সালফাইডথেকে প্রথম অর্ধ পরিবাহী ডায়োড সৃষ্টি হয়। এক্ষেত্রে ক্রিস্টালটিকে বর্তনীতে সংযুক্ত করা হত অত্যন্ত সরু ধাতব তার ব্যবহার করেগঠনগত সাদৃশ্যের কারণে যার নাম দেওয়া হয় ক্যাটস হুইস্কার বা বেড়ালের গোঁফ। ১৮৯৪ সালে বাঙালি বিজ্ঞানী জগদীশচন্দ্র বসু ক্রিস্টাল ডায়োড ব্যবহার করে রেডিও সংকেত পুনরুদ্ধার করতে সক্ষন হন ১৯০৩ সালে সিলিকন ক্রিস্টাল ডায়োড-ভিত্তিক রেডিও গ্রাহকের প্রায়োগিক রূপ দেন গ্রিনলিফ উইটিয়ার পিকার্ডযা তিনি ১৯০৬ সালে পেটেন্ট করেন  তবে অর্ধপরিবাহী ক্রিস্টালের বিশুদ্ধতা আশানুরূপ না থাকায় তা জনপ্রিয়তা লাভ করতে পারেনি।

পঞ্চাশের দশকে অর্ধপরিবাহী ক্রিস্টাল তৈরির পদ্ধতির উন্নতি ঘটলে যুক্তরাষ্ট্রের বেল ল্যাবে জার্মেনিয়াম-ভিত্তিক ডায়োড তৈরি শুরু হয়যা ক্রমশ ভ্যাকুয়াম টিউবকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যেতে থাকে। বর্তমানে বেশির ভাগ ডায়োড সিলিকন থেকে প্রস্তুত করা হয়তবে প্রয়োগের উপর নির্ভর করে অন্যান্য অর্ধপরিবাহীও (যেমন জার্মেনিয়ামসিলিকন কার্বাইড, III-V গ্যালিয়াম যৌগ ইত্যাদিব্যবহৃত হয়।

 

 

অর্ধপরিবাহী ডায়োড

 

অর্ধপরিবাহী ডায়োড  তার প্রতীক

একটি ডায়োডের খুব কাছে থেকে নেওয়া চিত্র যাতে বর্গাকৃতির অর্ধপরিবাহক স্ফটিকটি দেখা যাচ্ছে।

 

 

 

অধিকাংশ আধুনিক ডায়োডই অর্ধপরিবাহী জাংশন তত্ত্বের উপর নির্ভর করে বানানো হয়। এদের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো P-N জাংশন ডায়োড। এধরনের ডায়োড অর্ধ পরিবাহীর ক্রিস্টাল যেমন সিলিকন থেকে নির্মিত হয়। ক্রিস্টালের এক অংশে কিছু অপদ্রব্য মেশানো হয় (ডোপায়নযাতে এমন একটা জায়গা তৈরি হয় যাতে ঋণাত্নক চার্জের বাহক বা ইলেকট্রন অধিক পরিমাণে থাকেএঅংশকে বলা হয় এন(N)-টাইপ অর্ধপরিবাহী। ক্রিস্টালের অপর অংশে ভিন্নধর্মী অপদ্রব্যের সাহায্যে ধনাত্নক চার্জের ঘনত্ব বাড়িয়ে তোলা হয়।  অংশটিকে বলা হয় পি(P)-টাইপ অর্ধপরিবাহী। এই দুইটি অংশের (পি  এনসংযোগস্থলকে বলে পি-এন জাংশন যেখানে ডায়োডের মূল কাজগুলো সংগঠিত হয়ে থাকে। ডায়োডে তড়িৎ প্রবাহের দিক হচ্ছে P টাইপ অর্ধপরিবাহী থেকে N টাইপ অর্ধপরিবাহক দিকে। এর বিপরীত দিকে তড়িৎ প্রবাহিত হতে পারেনা 

 

বিভিন্ন প্রকার ডায়োড

স্মল সিগন্যাল ডায়োড (Small Signal Diode)

লার্জ সিগন্যাল ডায়োড (Large Signal Diode)

জিনার ডায়োড (Zener Diode)

লাইট ইমিটিং ডায়োড (Light Emitting Diode or LED)

ফটো ডায়োড (Photodiode)

লেজার ডায়োড (Laser Diode)

কনস্ট্যান্ট কারেন্ট ডায়োড (Constant Current Diode)

শটকী ডায়োড (Schottky Diode)

শকলী ডায়োড (Shockley Diode)

স্টেপ রিকভারী (Step Recovery Diode)

টানেল ডায়োড (Tunnel Diode)

ভ্যারাক্টর ডায়োড (Varactor Diode)

ট্রানজিয়েন্ট ভোল্টেজ সাপ্রেশন ডায়োড (Transient Voltage Suppression Diode or TVS Diode)

গোল্ড ডোপড্ ডায়োড (Gold Doped Diode)

সুপার ব্যারিয়ার ডায়োড (Super Barrier Diode)

Peltier ডায়োড (Peltier Diode)

ক্রিসটাল ডায়োড (Crystal Diode)

এভালেন্স ডায়োড (Avalanche Diode)

সিলিকন কন্ট্রো্ড রেকটিফায়ার (Silicon Controlled Rectifier)

ভ্যাকুয়াম ডায়োড (Vacuum Diode)

PIN ডায়োড (PIN Diode)

পয়েন্ট কন্টাক ডিভাইস (Point Contact Device)

গান ডায়োড (Gunn Diode)

 

লেখক-

আব্দুল্লাহ আল মামুন 

ইন্সট্রাক্টর (টেলিকমিউনিকেশন টেকনোলজি )  

 ড্যাফডিল পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট 

Comments

Sign in to comment