টলেস্ট স্কাইস্ক্রাপার বিল্ডিং ইন দ্য ওয়ার্ল্ড  (Tallest skyscraper building in the world)

 

 আজকে আমরা জানবো বর্তমান পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু ভবন বুর্জ খলিফা সম্পর্কে। বর্তমান পৃথিবীর বুকে মনুষ্য নির্মিত সবচেয়ে উঁচু অবকাঠামো বুর্জ খলিফা। মানব প্রকৌশলের ইতিহাসে এটি এক অনন্য অর্জন। 



 

C:\Users\Belal\Desktop\DPI\Blog-20201217T172433Z-001\Burj-Khalifa-Dubai.jpg




 

2010 সালে চালু হবার পর থেকে এখনো পর্যন্ত অন্য কোন দালাল বুর্জ খলিফার উচ্চতা কে ছাড়িয়ে যেতে পারেনি।  সংযুক্ত আরব আমিরাতের সর্ববৃহৎ শহর দুবাই  একাধিক উচ্চাভিলাষী প্রকল্পের জন্য বিখ্যাত। তারমধ্যে উল্ল্যেখযোগ্য এই শহরের আকাশচুম্বী দালানের সারি। সমগ্র পৃথিবীর দৃষ্টি আকর্ষন করার জন্য দুবাইয়ের শাসকেরা এই শহরে পৃথিবীর সবচেয়ে উচু বিল্ডিং তৈরি করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এর ফলে  2004 সালের জানুয়ারিতে বুর্জ খলিফা নির্মাণের জন্য ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় ।তারপর মাত্র ছয় বছরে অকল্পনীয় চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে 2010 সালের জানুয়ারিতে ভবনটি ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা হয় নির্মাণ চলাকালীন সময়ে এর নাম বুর্জ দুবাই হিসেবে প্রচার করা হলেও উদ্বোধনের সময় সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রপতি খলিফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ান এর সম্মানে এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় বুর্জ খলিফা। 


 

পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু টাওয়ারের উচ্চতা 828 মিটার বা 2717 ফুট। 163 তলা বিশিষ্ট এই ভবন এতটাই  এতটাই উঁচু যে নিচতলা থেকে সর্বোচ্চ তলা পর্যন্ত তাপমাত্রার পার্থক্য প্রায় 10 ডিগ্রি সেলসিয়াস। বিশাল  ভবন নির্মাণে খরচ হয়েছে প্রায় দেড় বিলিয়ন মার্কিন ডলার।যা বাংলাদেশী মুদ্রা প্রায় সাড়ে 12 হাজার কোটি টাকার সমান। 

ভবনের  নিচের ফোয়ারা নির্মাণ  করতে খরচ হয়েছে 130 মিলিয়ন পাউন্ড।

প্রতি  বুধবার থেকে শনিবার সন্ধ্যা থেকে প্রতি আধা ঘন্টা পর পর এই ফোয়ারা প্রদর্শনী চলে।C:\Users\Belal\Desktop\DPI\Blog-20201217T172433Z-001\ft-img-17-750x390.jpg


 

এত উঁচু বিল্ডিং এর কাজটা কি !!

বুর্জ খলিফাএকটি বহুমাত্রিক ভবন।

বিল্ডিংয়ের আছে নামিদামি রেস্টুরেন্টহোটে্ল, আবাসিক অ্যাপার্টমেন্ট ,অফিস স্পেসযোগাযোগ  সম্প্রচার কেন্দ্র এবং  এই ভবনের সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটন আকর্ষণ বুর্জ খলিফা পর্যবেক্ষণ ডেক। 

পৃথিবীর এই  সর্বোচ্চ পর্যবেক্ষণ ডেক  থেকে বুর্জ খলিফার চারদিকে 90 কিলোমিটার দূর পর্যন্ত দেখা যায়।

একই ভাবে 95 কিলোমিটার দূর থেকে বুর্জ খলিফার সর্বোচ্চ কেন্দ্রবিন্দু দেখা যায়।

বুর্জ খলিফার নকশা করা হয়েছে হাইমনোক্যালিস নামে একটি ফুলের আদলে। ধীরে ধীরে উপরে উঠার সাথে সাথে  এর এক একটি পাতার দৈর্ঘ্য কমে যায়। 

 

C:\Users\Belal\Desktop\DPI\Blog-20201217T172433Z-001\maxresdefault.jpg

 

ভবনটিতে রয়েছে তিনটি আলাদা প্রবেশপথ। একটি প্রবেশপথ আবাসিক ফ্লোর  গুলোর জন্য আর একটি হোটেলে যাওয়ার এবং অন্যটি বিভিন্ন অফিসের ভেতরে যাওয়ার জন্য।এর ভিতর হয়েছে এক হাজারেরও বেশি আবাসিক অ্যাপার্টমেন্ট 

 

43 এবং 76 তলায় আছে সুইমিংপুল  বুর্জ আল খলিফা আবাসিক এরিয়ার মধ্যে আছে 160 বিলাসবহুল কক্ষ।

 

পৃথিবীর সবচেয়ে উচু বিল্ডিং এর বিশ্বরেকর্ড ছাড়াও বুর্জ খলিফার আরো 6 টি বিশ্ব রেকর্ড আছে। এই ভবনটি পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু ফ্রি স্ট্যান্ডিং স্ট্রাকচার বা স্বতন্ত্রভাবে দাঁড়িয়ে থাকা পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু অবকাঠামো। এটি পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি তলা বিশিষ্ট ভবন এছাড়া একই ভবনের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত তলা সম্পন্ন বিল্ডিং। সবচেয়ে বেশি বহিরঙ্গন পর্যবেক্ষণে ডেক আছে এই ভবনে। এখানে আছে পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘ ব্যবহৃত লিফট ব্যবস্থা এবং সবচেয়ে দীর্ঘ রক্ষণাবেক্ষণ  লিফট  রয়েছে  বুর্জ খলিফায়।  এখানকার সবচেয়ে দীর্ঘ লিফট  140 তলা পর্যন্ত বিস্তৃত।এসব লিফট প্রতি সেকেন্ডে প্রায় 33 ফুট পর্যন্ত ওঠানামা করতে পারে অর্থাৎ এই লিফটের গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় 40 কিলোমিটার।

লিফটে চড়ে  নিচতলা থেকে 124 তলার পর্যবেক্ষণ ডেকে উঠতে সময় লাগে মাত্র এক মিনিট। এত দীর্ঘ লিফট  থাকাটা অস্বাভাবিক নয়কারণ উচ্চতার দিক থেকে বুর্জ খলিফা আইফেল টাওয়ারের তিনগুণ এবং এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিং এর প্রায় দ্বিগুণ।


 

বুর্জ খলিফা নির্মাণ করতে এক লক্ষ ১০ হাজার  টন কংক্রিট এবং 55 হাজার টন স্টিল দরকার হয়েছে।এই দালাল নির্মাণে ব্যবহৃত কংক্রিট এর ওজন প্রায় এক লক্ষ হাতির ওজনের সমান। ভবনটির  নির্মাণ কাজ যখন সবচেয়ে দ্রুত বেগে চলছিল তখন এমনও দিন গেছে একদিনে 12 হাজার শ্রমিক একসাথে নির্মাণ কাজ করেছে। সেই সময় প্রতি তিন দিন পর পর একটি ছাদ নির্মিত হয়েছে।

 সকল শ্রমিকের সম্মিলিত  পরিশ্রম হিসাব করলে 2 কোটি 20 লক্ষ ঘন্টার পরিশ্রম লেগেছে 

 

বুর্জ খলিফা  এর মত সুউচ্চ বহুতল ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে  টিউব স্ট্রাকচার নামে এক বিশেষ পদ্ধতির মাধ্যমে।

টিউব স্ট্রাকচার পদ্ধতির মাধ্যমে খুব অল্প সময়ে অল্প খরচে টেকসই বহুতল ভবন নির্মাণ করা যায়।  আপনারা জেনে অবাক হবেন যে  বুর্জ খলিফার সহ বর্তমান  পৃথিবীর বহুতল ভবনগুলো তৈরীর অভিনব পদ্ধতি  টিউব স্ট্রাকচার সিস্টেমের উদ্ভাবক  একজন বাংলাদেশী।

 

তার নাম ফজলুর রহমান খান। যিনি সারা পৃথিবীতে এফ আর খান নামে পরিচিত। এমনকি খলিফা ভবনের নকশা এবং নির্মাতা প্রতিষ্ঠান  আমেরিকার skidmore, owings & Merrill  এর পরিচালক হিসেবেও ফজলুর রহমান খান দায়িত্ব পালন করেছেন।

তার নকশাকৃত সিয়ার্স টাওয়ার প্রায় 25 বছর বিশ্বের সর্ববৃহৎ ভবন হিসেবে পরিচিত ছিল।

বাংলাদেশের বিখ্যাত প্রকৌশলী শুধুমাত্র বর্তমান পৃথিবীর ভবন নির্মাণের কাঠামো বদলে দেননি তিনি যেন মানবসভ্যতাকে পৌঁছে দিয়েছে নতুন এক মাত্রা।

এই জন্যই তাকে আইনস্টাইন অফ স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং বলা হয়।

 

লিমা আক্তার 

জুনিয়র ইনস্ট্রাক্টর

আর্কিটেকচার এন্ড ইন্টেরিয়র ডিজাইন টেকনোলজি

ড্যাফোডিল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট


 

Comments

Sign in to comment