ক্যাপাসিটর, ডায়োড এবং ট্রানজিস্টর কিভাবে সার্কিটের কাজ করে / How capacitors, diodes and transistors work in the circuit

ক্যাপাসিটরডায়োড এবং ট্রানজিস্টার এই কম্পোনেন্টগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ কম্পনেন্ট  যা প্রত্যেকটি ইলেকট্রনিক সার্কিট এর মধ্যে অত্যাবশ্যকীয় ।এগুলো ছাড়া কোনো ইলেকট্রনিক সার্কিট  চিন্তা করা যায় না ।সুতরাং এগুলো কিভাবে একটি সার্কিটে কাজ করে সেই বিষয়গুলো পরিষ্কারভাবে প্রত্যেকের কাছে জানা দরকার ।এই ধারণা থেকে আজকের বিষয় লেখা। আশা করি  বিষয়ে ক্লিয়ার একটি ধারণা পাওয়া যাবে  চলুন জেনে নেই এই বিষয় সম্পর্কে।

ক্যাপাসিটর 

ক্যাপাসিটর বা ধারক একটি বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ। দুইটি পরিবাহী পাতের মাঝে একটি ডাই-ইলেকট্রিক অপরিবাহী পদার্থ নিয়ে এটি গঠিত। ডাই-ইলেকট্রিক এমন একটি পদার্থ যা বৈদ্যুতিক ক্ষেত্রের প্রভাবে পোলারায়িত হতে পারে।  পদার্থ হতে পারে বা কাচসিরামিকপ্লাস্টিক বা শুধুই বাতাস।ধারক সার্কিটে বিদ্যুৎ সংরক্ষণের আধার হিসেবে কাজ করে। ক্ষেত্রবিশেষে এটা উচ্চ  নিম্ন তরঙ্গের জন্য ছাকনি (filter)হিসেবে কাজ করে। পূর্বে একে কনডেনসার বলে ডাকা হত। কারণপ্রথমে বিজ্ঞানীগণ ভেবেছিলেনধারকে তড়িৎ একেবারে জমাট বেঁধে যায়। কিন্তু পরে জানা যায় যেএখানে তড়িৎ জমে যায় না। শুধুমাত্র আধান সঞ্চিত হয় এবং প্রয়োজনানুযায়ী ব্যবহার করা যায়।

 

 

ক্যাপাসিটর এর প্রকারভেদ

ইলেকট্রোলাইটিক ধারকউচ্চ ধারকত্ব- জন্য এই ধারক সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। রেডিও- ফিল্টার বাইপাস সার্কিটে ব্যবহৃত হলেও AC সার্কিটে ব্যবহার করা যায় না।

 

সিরামিক ধারকএতে সিরামিক ডাই-ইলেক্ট্রিক হিসেবে ব্যবহৃত হলেও এদের ধারকত্ব খুবই কম। মাত্র 1pF থেকে 100pF এবং সর্বোচ্চ সহনীয় ক্ষমতা ৫০০ ভোল্ট পর্যন্ত। মূলত কাপলিং-ডিকাপলিং বাইপাস সার্কিটের এটি ব্যবহৃত হয়।

 

পরিবর্তনশীল বায়ু ধারক: এর মান প্রয়োজনমত বাড়ানো এবং কমানো যায়। এতে অনেকগুলো অর্ধবৃত্তাকার সমান্তরাল অ্যালুমিনিয়ামের পাত দুভাগে ভাগ করে বসান থাকে।পাতগুলোর মাঝে বায়ু ডাই-ইলেক্ট্রিক মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। টিউনিং সার্কিট হিসেবে এদের ব্যবহার করা হয়।
 

ক্যাপাসিটর এর ব্যবহার

মূলত চার্জ সংরক্ষণ করার কাজে ব্যবহৃত হয়।বিভিন্ন বর্তনীতে ধারক ফিল্টার হিসাবে ব্যবহার করা হয়। কারণ ধারক একমুখী তড়িৎ প্রবাহকে বাধা দেয় কিন্তু দিক পরিবর্তী প্রবাহকে তার মধ্য দিয়ে সঞ্চালিত হতে দেয়।বিভিন্ন গ্রাহক বর্তনীতে তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ ধরার জন্য বা টিউন করার জন্য ধারক ব্যবহার করা হয়।

ডায়োড 

একটি দুই প্রান্ত বিশিষ্ট ইলেক্ট্রনিক যন্ত্রাংশ যা বর্তনীতে কেবল মাত্র একদিকে তড়িৎপ্রবাহ হতে দেয় । এছাড়াও বৈদ্যুতিক উপায়ে ধারকত্ব নিয়ন্ত্রন (ভ্যারিক্যাপ) এবং বিকিরণ, নিঃসরণ ও কম্পন সংবেদী ইলেকট্রনিক সুইচ তৈরিতে ডায়োড ব্যবহৃত হয়। তড়িৎশক্তির আকর্ষণীয় উৎস সৌর কোষও মূলত এক ধরণের আলোক-সংবেদী ডায়োড।ডায়োড মূলত একটি নির্দিষ্ট দিকের তড়িৎ প্রবাহকে সহায়তা করে এবং তার বিপরীত দিকের তড়িৎ প্রবাহকে বাধা প্রদান করে। এই ধরনের একদিকে প্রবাহিত করার প্রবণতাকে রেকটিফিকেশন বলা হয়ে থাকে যা এসি কারেন্ট থেকে ডিসি কারেন্টে তৈরি এবং রেডিও সংকেতের মর্মোদ্ধারের প্রথম ধাপ। 

 

ডায়োডের প্রকারভেদ

গঠন ও কার্যপ্রনালীর উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন ধরনের Diode ইলেকট্রনিক্স সার্কিটে ব্যবহার হতে দেখা যায়।

 

সাধারণ ডায়োড

জেনার ডায়োড
স্কটকি ডায়োড
টানেল ডায়োড
ভ্যারাক্টর ডায়োড
ফটো ডায়োড
সোলার সেল
লেজার ডায়োড


কাজের ধরন অনুযায়ী ডায়োড কে আবার ২ ভাগে ভাগ করা যায়।

পাওয়ার ডায়োড
সিগন্যাল ডায়োড

 

ট্রানজিস্টর 

ট্রানজিস্টর (Transistor) একটি অর্ধ পরিবাহী কৌশল যা সাধারণত  অ্যামপ্লিফায়ার এবং বৈদ্যুতিকভাবে নিয়ন্ত্রিত সুইচ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।কম্পিউটার, সেলুলার ফোন এবং অন্য সকল আধুনিক ইলেকট্রনিক্‌সের মূল গাঠনিক উপাদান হিসেবে ট্রানজিস্টর ব্যবহার করা হয়। দ্রুত সাড়া প্রদানের ক্ষমতা এবং সঠিক সম্পূর্ণ সঠিকভাবে কার্য সাধনের ক্ষমতার কারণে এটি আধুনিক ডিজাটাল বা অ্যানালগ যন্ত্রপাতি তৈরীতে বহুল ব্যবহৃত হচ্ছে। নির্দিষ্ট ব্যবহারগুলোর মধ্যে রয়েছে  ইলেকট্রনিক অ্যামপ্লিফায়ার,  সুইচ,  ভোল্টেজ নিয়ন্ত্রক, সংকেত উপযোজন এবং ওসিলেটর। আলাদা আলাদাভাবে ট্রানজিস্টর তৈরি করা যায়। আবার সমন্বিত বর্তনীরঅভ্যন্তরে একটি অতি ক্ষুদ্র স্থানে কয়েক মিলিয়ন পর্যন্ত ট্রানজিস্টর সংযুক্ত করা যায়। 

 

ট্রানজিস্টরের প্রকারভেদ

*  গঠনের উপর ভিত্তি করে জাংশন ট্রানজিস্টর ২ প্রকার

1. ফিল্ড ইফেক্ট ট্রানজিস্টর
2. বাইপোলার জাংশন ট্রানজিস্টর

বাইপোলার জাংশন ট্রানজিস্টরের গঠন প্রকৃতি পোলারিটি অনুসারে দুই প্রকার জাংশন 

1. ফিল্ড ইফেক্ট ট্রানজিস্টর (FET)
2. মেটাল অক্সাইড সেমিকন্ডাক্টর ফিল্ড ইফেক্ট ট্রানজিস্টর (MOSFET)

* জাংশন ফিল্ড ইফেক্ট ট্রানজিস্টর আবার দুই প্রকার

1. এন চ্যানেল জাংশন ফিল্ড ইফেক্ট ট্রানজিস্টর
2. পি চ্যানেল জাংশন ফিল্ড ইফেক্ট ট্রানজিস্টর

*মেটাল অক্সাইড সেমিকন্ডাক্টর ফিল্ড ইফেক্ট ট্রানজিস্টর (MOSFET)

1. ডিপ্লেশন এনহেন্সমেইন্ট টাইপ (DE-MOSFET)
2. এনহেন্সমেন্ট টাইপ (E-MOSFET)

ডিপ্লেশন এনহেন্সমেইন্ট টাইপ (DE-MOSFET)আবার দুই প্রকার

1. এন চ্যানেল DE-MOSFET
2. পি চ্যানেল DE-MOSFET

*এনহেন্সমেন্ট টাইপ (E-MOSFET)মসফেট আবার দুই প্রকার
1. এন চ্যানেল E-MOSFET
2. পি চ্যানলে E-MOSFET

 

পরিশেষে বলতে চাই উপরের বিষয়গুলো পাঠ করার পরে সকলের কাছে ক্যাপাসিটর, ডায়োড এবং ট্রানজিস্টার বিষয়ে যত কোশ্চেন ছিল সকল বিষয়গুলো পরিষ্কার ধারণা দিতে পেরেছি । আজকে এতোটুকুই থাক পরবর্তীতে কোন একসময় কোন এক বিষয় নিয়ে আবার হাজির হব

 

লিখেছেন

মোঃশফিকুল ইসলাম মিলন

ইন্সট্রাক্টর

ইলেকট্রিক্যাল ডিপার্টমেন্ট

ড্যাফোডিল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট

Comments

Sign in to comment