History of Modern Architecture of Bangladesh | Hazrat Shahjalal International Airport

হিস্ট্রি অফ মডার্ন আর্কিটেকচার অফ বাংলাদেশ

History of Modern Architecture of Bangladesh 

(পার্ট -০৩: হযরত শাহজালাল ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট )

হযরত শাহ্‌জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (পুরানো নাম: জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর) রাজধানী ঢাকার 

কুর্মিটোলায় অবস্থিত ।এটি বাংলাদেশের ৭টি বিমানবন্দরের মধ্যে প্রধান এবং সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক 

বিমানবন্দর।

এটি বাংলাদেশের  জাতীয় বিমানবন্দর, যা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রাহমানের নামে নামকরণ করা হয়।পুর্বে এটির নাম ছিল জিয়া আন্তজার্তিকবিমানবন্দর।বর্তমানে এটির নামকরণ করা হয় হযরত 

শাহজালাল আন্তজার্তিক বিমানবন্দর।

 

স্থাপত্যিক ইতিহাস

১৯৪১ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ সরকার তেজগাঁও থেকে কয়েক কিলোমিটার উত্তরে কুর্মিটোলায় 

উড়োজাহাজ নামার জন্য একটি রানওয়ে তৈরি করে।

১৯৪৭ সালে পাকিস্তান গঠনের পর তেজগাঁও বিমানবন্দরটি পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম বিমানবন্দর হয়ে ওঠে।১৯৬৬ সালে তৎকালীন পাকিস্তানের সরকার কুর্মিটোলার উত্তর পূর্বাঞ্চলে  নতুন বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য 

একটি প্রকল্প গ্রহণ করে এবং ফরাসি বিশেষজ্ঞদের মতে টার্মিনাল নির্মাণ এবং রানওয়ে নির্মাণের জন্য টেন্ডার 

চালু করা হয়। নির্মাণ সামগ্রী পরিবহন জন্য একটি রেল স্টেশন (বর্তমান এয়ারপোর্ট রেলওয়ে স্টেশন) নির্মিত 

হয়।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় বিমানবন্দরটি অর্ধেক সম্পন্ন অবস্থায় ছিল, কিন্তু যুদ্ধের সময় বিমানবন্দরে 

গুরুতর ক্ষতি সাধিত হয়।

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ সরকার পরিত্যক্ত কাজ পুনরায় চালু করে এবং এটিকে দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক 

বিমানবন্দর হিসাবে নির্মানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয় । মূল রানওয়ে এবং কেন্দ্রীয় অংশটি খোলার মাধ্যমে ১৯৮০ 

সালে এয়ারপোর্টটি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে । তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিমানবন্দরটির 

শুভ উদ্বোধন করেন। রাজনৈতিক কারণে আরও তিন বছর লাগে এটি সম্পন্ন হতে অবশেষে ১৯৮৩ সালে  

রাষ্ট্রপতি আবদুস সাত্তার জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসাবে বিমানবন্দরের উদ্বোধন করেন।

২০১০ সালে ক্ষমতাসীন সরকার বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তন করে, জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে 

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসাবে নামকরণ করে।

 

স্থাপত্যিক বৈশিষ্ট্যঃ

 

১,৯৮১ একর এলাকা বিস্তৃত এই বিমানবন্দর দিয়ে দেশের প্রায় ৫২ শতাংশ আন্তর্জাতিক এবং আভ্যন্তরীন 

ফ্লাইট উঠানামা করে, যেখানে চট্টগ্রামে অবস্থিত দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিমানবন্দর শাহ আমানত 

আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রায় ১৭ শতাংশ যাত্রী ব্যবহার করে। এ বিমানবন্দর দিয়ে বার্ষিক প্রায় ৪০ লক্ষ 

আন্তর্জাতিক ও ১০ লক্ষ অভ্যন্তরীন যাত্রী এবং ১৫০,০০০ টন ডাক ও মালামাল আসা-যাওয়া করে।

হযরত শাহ্‌জালাল আন্তর্জাতিক  বিমানবন্দরটি তিনটি যাত্রী টার্মিনাল - টি 1, টি 2 এবং ডমেস্টিক টার্মিনাল 

নিয়ে গঠিত । টি 1 এবং টি 2 উভয়ই আন্তর্জাতিক ক্রিয়াকলাপের জন্য ব্যবহার করা হয় এবং সমস্ত অভ্যন্তরীণ 

ফ্লাইটগুলি ঘরোয়া টার্মিনাল থেকে ছেড়ে যায়।

 

বর্তমানে ১০৫০০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৪৫ ফুট প্রস্থের একটি রানওযে সম্বলিত এই বিমানবন্দরে বেসামরিক 

বিমানের পাশাপাশি দ্রুতগামী সামরিক বিমান চলাচল করছে । শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর 

বাংলাদেশকে বিশ্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোর সাথে সংযুক্ত করেছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এই 

বিমানবন্দর থেকে ইউরোপ এবং এশিয়ার ১৮টি শহরে চলাচল করেবিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সসহ বিভিন্ন ১৮টি 

এয়ারলাইন্স এবং একটি কার্গো বিমান সংস্থা এই বিমানবন্দর ব্যবহার করে।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রানওয়ে ঘিরে ৩০টিরও বেশি ভবন রয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে আগে 

যেখানে ২১টি গেইট ছিল, তা কমিয়ে ৭টিতে আনা হয়েছে।

 

ফিউচার এক্সটেনশনঃ 

যেকোনো একটি দেশ উন্নত থেকে উন্নতর হয় যখন সে দেশের শিল্প, বাণিজ্য, যোগাযোগ ব্যবস্থা,প্রযুক্তির 

একাধারে উন্নতি সাধন হয় এবং মডার্ন আর্কিটেকচার বা আধুনিক স্থাপনা ও এর একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। 

https://bsdi-bd.org/history-of-modern-archeteture/

 

প্রতিটি দেশের বিমানবন্দর সেদেশের উন্নতি-অবনতির একটি চিত্র বিদেশীদের কাছে তুলে ধরে। বিদেশি 

বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ভ্রমণকারীদের আকৃষ্ট এবং যাত্রীদের সেবার মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশের প্রধান বিমানবন্দর 

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কে আধুনিকায়ন করার উদ্যোগ নিয়েছে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ 

হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্মাণাধীন তৃতীয় 

টার্মিনাল হবে বিশ্বের অত্যাধুনিক দৃষ্টিনন্দন বিমানবন্দরগুলোর সমতুল্য । যেখানে থাকবে ইংল্যান্ড, 

সিঙ্গাপুর কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বন্দরগুলোর মত আধুনিক সুযোগ-সুবিধা । বাংলাদেশকে দক্ষিণ-পূর্ব 

এশিয়ায় বিমান পরিবহন এর কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে তুলতে নির্মাণ করা হচ্ছে শাহজালাল আন্তর্জাতিক 

বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল । উচ্চ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি বাংলাদেশ যে  আর্থসামাজিক ভাবে 

দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে দেশে-বিদেশে তার একটি ইতিবাচক বার্তা দিবে এই নতুন টার্মিনাল। বিমানবন্দরের 

দক্ষিণ পূর্ব পাশে সাড়ে তিন হাজার একর জমির উপর দেড় হাজার শ্রমিকের শ্রমে দ্রুত গতিতে এগিয়ে 

চলেছে এই মেঘা প্রকল্পের কাজ ।আন্তর্জাতিক মানের এই টার্মিনালে প্রথমধাপে  থাকবে ১২টি বোর্ডিং 

ব্রিজ, ১৬ টি লাগেজ বেল্ট,  বহুতল কার পার্কিং,  উড়োজাহাজ রাখার ৩৫টি পার্কিং বে,ও আমদানি 

রপ্তানির জন্য পৃথক কার্গো ভিলেজ। এছাড়াও নির্মাণ করা হবে আরেকটি রানওয়ে ।সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় 

ভাবে পরিচালিত তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে পাল্টে যাবে শাহজালাল বিমানবন্দরের চেহারা। ভৌগলিক 

কারণে এবং সময় ও খরচ কম হওয়ার কারণে শুধু উত্তর দক্ষিণ নয় পূর্ব পশ্চিম এর দেশগুলোর বিমান 

ওঠা নামার ক্ষেত্রেও কেন্দ্র হয়ে উঠবে এই বিমানবন্দর । তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে শাহজালাল বিমানবন্দর 

দিয়ে বছরে 2 কোটি যাত্রী যাতায়াত করতে পারবেন। আর প্রায় আড়াই লাখ বিমান ওঠানামা করবে এই 

বিমানবন্দরে। দেশের স্বার্থে এই মহাপ্রকল্প এগিয়ে চলছে দুর্বার গতিতে ।

 

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল

 

 

লেখক

লিমা আক্তার 

জুনিয়র ইনস্ট্রাক্টর

আর্কিটেকচার এন্ড ইন্টেরিয়র ডিজাইন টেকনোলজি

ড্যাফোডিল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট


 

 

Comments

Sign in to comment