রেজিস্টরের মান বের করার সহজ উপায় / Easy way to find out the value of the register

 

বর্তমানে ইলেক্ট্রনিক্স জগতের একটি বহুল ব্যাবহৃত কম্পোনেন্ট হল রেজিস্টর। যে কোন ইলেক্ট্রিক সার্কিট বোর্ডের গায়েই লক্ষ্য করলে এদের দেখা পাওয়া যাবে। রেজিস্টরের মূল কাজ হল বিদ্যুৎ প্রবাহে বাঁধা দেয়া

আমরা যারা নতুন তারা এই  ক্যালকুলেশন সম্পর্কে অনেকেই অবগত নই। তাদের পক্ষে রেজিস্টর দেখে মান বোঝা খুবই মুশকিল হয়ে পরে। তখন তারা শরণাপন্ন হতে হয় অভিজ্ঞ বড় ভাইদের নিকট।  কিন্তু এখন আর বড় ভাইদের পিছনে পিছনে ঘোরার কোন প্রয়োজন নেই।

রেজিস্টর মূলত দুই ধরণের হয়। (১) ফিক্সড রেজিস্টর এবং (২) ভেরিয়েবল রেজিস্টর। 

নাম থেকেই বোঝা যাচ্ছে যে প্রথম ধরণের রেজিস্টর গুলোর বাঁধা দেয়ার মান নির্দৃষ্ট করে দেয়া কিন্তু পরের ধরণের রেজিস্টরের মান ইচ্ছা মত পরিবর্তন করা যায়।

 

রেজিস্টরের মান নির্ণয়ঃ 

 

রেজিস্টরের মান বের করার দুইটি নিয়ম

১-  এনালগ/ডিজিটাল মিটারের সাহায্যে

২-  কালার কোড এর সাহায্যে

এনালগ মিটারঃ

 

শুরুতেই দেখে নিতে হবে মিটারের কাটা টি জিরো করা আছে কিনা।না থাকলে জিরো করে নিতে হবে। 

এরপর মিটারের সিলেক্টিং নবকে অহম পজিশনে নিতে হবে। মিটারের দুইটি ক্যাবল রেজিস্টরের দুই প্রান্তে ধরতে হবে। তাহলেই মান পাওয়া যাবে। 


 

ডিজিটাল মিটারঃ


বর্তমানে এটি খুব ব্যবহার হচ্ছে। এর সাহায্যে খুব সহজে মান বের করা যায়। মিটারের সিলেক্টিং নবকে অহম পজিশনে নিতে হবে। মিটারের দুইটি ক্যাবল রেজিস্টরের দুই প্রান্তে ধরতে হবে।  ছবিতির মত কানেকশন দিলে রেসিস্টেন্স বের করা যাবে।

 

কালার কোড দেখে রেজিস্টরের মান

কালার কোড অনেকটা নাম্বার কোডের মতই, শুধু প্রতিটা নাম্বারের পরিবর্তে একটা কালার আছে। কালার কোডেড রেজিস্টর চার ও পাঁচ ব্যান্ডের হয়ে থাকে। নিচের ছবিতে একটা কালার কোডেড রেজিস্টর দেখানো হল।







 

চার্ট থেকে দেখে বোঝা যাচ্ছে যে মোট ৯ টি কালার ব্যাবহার করে এই পদ্ধতিতে রেজিস্টরের মান লেখা হয় এবং আরো বোঝা যাচ্ছে যে এই চার্ট মনে রাখাও কষ্টকর।

মানগুলো সহজে মনে রাখার টেকনিকঃ

বাংলায়ঃ কা বা লা ক হ স নী বে ধু সা

ইংরেজিতেঃ BB ROY Good Boy And Very Good Workers

B= Black ( কালো )~0

B=Brown ( বাদামী ) ~1

R=Red ( লাল ) ~2

O=Orange ( কমলা ) ~3

Y=Yellow ( হলুদ ) ~4

G=Green ( সবুজ ) ~5

B=Blue ( নীল ) ~6

V=Violet ( বেগুনী ) ~7

G=Gray ( ধুসর ) ~8

W=White ( সাদা ) ~9

রেজিস্টর হাতে নিয়ে প্রথমেই দেখতে হবে এর কোন পাশে সোনালী বা রুপালী দাগ দেয়া আছে। যে পাশে এই দুই রঙের যেকোন একটা রং পাওয়া যাবে সেই পাশটা ডান দিকে রেখে পড়তে হবে। আর অবশ্যই বাম থেকে ডানে পড়তে হবে।

বাম থেকে প্রথম দুই কালারের মান পর পর বসিয়ে যে সংখ্যা আসবে তার সাথে তৃতীয় রং এর মান সংখ্যক শূন্য বসালে রেজিস্টরের মান পাওয়া যাবে।

 

নিচের ছবিটিতে দেখানো হল কিভাবে সাধারণত রেজিস্টরের কোড দয়া থাকেঃ

 

যেমন ওপরের রেজিস্টরের ক্ষেত্রে সোনালী রং ডানে রেখে যদি পড়ি, প্রথম রং হলুদ এর ৪ এবং বেগুনীর জন্য আমরা পাব ৭ অর্থাৎ ৪৭। তৃতীয় রঙ কমলার জন্য পাচ্ছি ৩ টা শূন্য। অর্থাৎ ৪৭০০০। এটাই হল এই রেজিস্টরের মান ৪৭ কিলো ওহম।

এখন আসি টলারেন্স বা রেজিস্টরের কোয়ালিটির ব্যাপারে। আমরা জনি কোন পদার্থ যখন বিদ্যুৎ প্রবাহে বাঁধা দেয় তখন সেটা ধীরে ধীরে গরম হতে থাকে। রেজিস্টর ও যেহেতু বিদ্যুৎ প্রবাহে বাঁধা দেয় তাই রেজিস্টর ও গরম হয়। এমনকি ভূলভাল ভাবে রেজিস্টর বসালে সেটা গরম হয়ে লাল রং ধারন করে

রেজিস্টর বিদ্যুৎ প্রবাহে যত বেশি বাঁধা দেবে তত বেশি গরম হবে। রেজিস্টরের ভেতরের গঠন দেখলেই ব্যপারটা বোঝা যাবে।

খেয়াল করলে দেখব যে রেজিস্টরের ভেতরে বাল্বের ফিলামেন্টের মত প্যাঁচানো কয়েল আছে। এই কয়েলই বিদ্যুৎ প্রবাহে বাঁধা দেয়। কয়েল যত বড় হবে তত বেশি বাঁধা দেবে আর তত বেশি গরম হবে।

যে কোন পরিবাহী পদার্থের তাপ বাড়ানো হলে সেটার রোধ বা বাঁধা দেয়ার ক্ষমতা কমে যায়। এখন রেজিস্টরের তাপ যেহেতু বাড়বে তাই এর ক্ষমতাও কিছুটা কমে বাড়ে। এই ব্যাপারটাকেই বলা হচ্ছে টলারেন্স।

কি পদার্থ দিয়ে এই কয়েল তৈরী হচ্ছে সেটার ওপর ভিত্তি করে টলারেন্স কমানো বাড়ানো যায়। তাই কোন রেজিস্টরের টলারেন্সের কালার খেয়াল করলে দেখব সেখানে সাধারণত দুই রকমের কালার দেখা যায়। সোনালী এবং রুপালী। সোনালী রঙের জন্য টলারেন্স হবে ৫% এবং রুপালী রঙের জন্য টলারেন্স হবে ১০%।

 

যদি ৪৭০০০ ওহম রেজিস্টরটা আবার খেয়াল করি তো দেখব এর শেষ রং সোনালী। অর্থাৎ এর টলারেন্স ৫%। তাই এই রেজিস্টরের মান হবে ৪৭০০০±৫%।







 

আহম্মদ  আলী

জুনিয়র ইন্সট্রাকটর,

ডিপার্টমেন্ট অব ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং 

ড্যাফোডিল পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট

 

Comments

Sign in to comment