উদ্ভাবক নাঈমের গল্প (Story of Nayem)

নাঈম ইসলাম গ্রামের ছেলে তার গ্রামটা অন্য গ্রামের মতো অতটা উন্নত ছিলনা ,ছিলনা বিদ্যুৎ, ছিলনা কোন ইন্টারনেট কানেকশন তার ছিল শুধু শেখার ইচ্ছেটা এবং নতুন কিছু বানানোর প্রচেষ্টা , অন্যদের সাথে খেলাধুলায় তেমনটা না মেতে নিজেকে সময় দিত। তার খেলার সঙ্গী গুলো ছিল ভাঙ্গাচুরা ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রপাতি ও কারেন্টের নষ্ট বাল্ব।
শুরু হয় অনেক ছোটবেলা থেকে তখন তিনি তেমন কিছু বুঝতেন না ফোনের চার্জার ভিডিও নষ্ট লাইট নষ্ট ব্যাটারি দেয়াল ঘড়ি নষ্ট ও পরিত্যক্তসার্কিট ইত্যাদি দিয়ে ছোট্ট নাঈম  এক্সপেরিমেন্ট করতেন। তার প্রথম আবিষ্কার ছিল স্পিডবোর্ড্ প্রথমে  স্পিডবোর্ড টি তার মন মত হয়না কারণ এটা সোজা ভাবে যেতেই পারে না সে যদি তাকে সোজা ভাবে ছেড়ে দেই সেডানের ঘুরতে থাকে বা বামে ঘুরতেই থাকে আমি এটা নিয়ে অনেক ভাবতে থাকি এটা কেন সোজা যায় না মাঝেমধ্যে মনে হতো এটাকি আছাড় মেরে ভেঙ্গে  ফেলবো । সে নিজে নিজে ভাবলো যেমন করেই হোক তাকে আমি  সোজা ভাবে চলাবেই। তিনি বলেন, “আমি স্পীডবোটির  দিকে তাকিয়ে থাকি হঠাৎ করে আমার  তার পাখার দিকে  চোখে পড়ে  তখন আমি বুঝতে পারি আমি যদি  পাখাটা কে  একটু বাঁকিয়ে দেই তাহলে আমার স্পিডবোর্ড টি সামনের দিকে চলবে যেমন কথা তেমন কাজ আমার স্পিডবোর্ড টা তখন সামনের দিকে চলতে শুরু করে, আমি তখন এতটাই আনন্দিত হয়েছিলাম আমার কাছে মনে হয়েছিল আমি হয়তো বিশ্ব জয় করে ফেলেছি। অন্যদের কাছে হয়তো  এটা অনেক ছোট একটা জিনিস কিন্তু তখন আমার কাছে অনেক বড় একটা  জিনিস ছিল  এটাই আমার প্রথম প্রজেক্ট ছিল। "

 


তার দ্বিতীয় প্রজেক্ট ছিল সিএনজি । তিনি বলেন, “একটা মজার বিষয় ছিল আমি আমার আম্মুর পুরনো  ও নষ্ট টলি ব্যাগের চাকা খুলে সিএনজিতে লাগিয়ে ছিলাম সিএনজি তৈরি করেছিলাম স্কুল থেকে কুড়িয়ে নেওয়া কিছু কলম দিয়ে।  আর আমার এই ধরনের উদ্ভাবনীয়  মনোভাব দেখে  সবাই আমাকে অনেক উৎসাহ দিত, আমার অনেক ভালো লাগতো এবং উৎসাহ পাওয়ার জন্য নতুন কিছু বানানোর অনেক ইচ্ছে হতো এমনকি আমি সেগুলো তৈরি করে দেখাতাম মানুষকে। ”
তার মোট ১০০ টিরো বেশি এমন ছোট ছোট  প্রজেক্ট আছে। সাম্প্রতি তিনি লকডাউনের মধ্যে ঘরে বসে সময় অপচয় না করে তিনি তৈরি করেছেন গ্যাস ডিটেক্টর, হোম অটোমেশন এবং ক্লাপ সেন্সর।

Comments

Sign in to comment