পাওয়ার ফ্যাক্টর

পাওয়ার ফ্যাক্টর


.সি সার্কিটে কারেন্ট  ভোল্টেজের মধ্যবর্তী কোণের কোসাইন মানকে পাওয়ার ফ্যাক্টর বলে। কারেন্ট  ভোল্টেজের মধ্যবর্তী কোণ ϴ হলে,পাওয়ার ফ্যাক্টর (pf) = Cosϴ

আসলে Power Factor বলতে কোন গ্রাহক বা সিস্টেম মোট পাওয়ারের কতটুকু ব্যবহার করছে সেটা মাপার মানদণ্ড হলো এই Power Factor.
Power Factor=(ব্যবহৃত পাওয়ার/মোট পাওয়ারযদি গ্রহণকৃত পাওয়ার  ব্যবহৃত পাওয়ার সমান হয় তাহলে Power Factor এর মান হবে  বা ১০০%
আমরা জানি Apparent power=Real power+Reactive power

 

Cosϴ=Real power/Apparent power
সার্কিটে প্রদত্ত পাওয়ারের কতটুকু পাওয়ার কাজে রুপান্তরিত হচ্ছে তাকেই পাওয়ার ফেক্টর বলে।

 

Power Factor এর মান ৬০এর অর্থ হলো,মোট যতটুকু পাওয়ার সিস্টেম থেকে গ্রহন করে তারমাত্র ৬০ব্যবহার করে
উদহরন স্বরুপ আপাত মোট পাওয়ার ১০০ এবং প্রকৃত ব্যাবহৃত পাওয়ার ৬০ হলে পাওয়ার ফ্যাক্টর এর মান হবে  Cosϴ=Real power/Apparent power
                        =
৬০/১০০
                       =.
Power Factor এর মান ৮০এর অর্থ হলো,মোট যতটুকু পাওয়ার সিস্টেম থেকে গ্রহন করে তারমাত্র ৮০ব্যবহার করে
উদহরন স্বরুপ আপাত মোট পাওয়ার ১০০ এবং প্রকৃত ব্যাবহৃত পাওয়ার ৮০ হলে পাওয়ার ফ্যাক্টর এর মান হবে  Cosϴ=Real power/Apparent power
                       =
৮০/১০০
                        =.
Power Factor এর মান ১০০এর অর্থ হলো,মোট যতটুকু পাওয়ার সিস্টেম থেকে গ্রহন করে তার সম্পুর্নটাই ( ১০০%) ব্যবহার করে
উদহরন স্বরুপ আপাত মোট পাওয়ার ১০০ এবং প্রকৃত ব্যাবহৃত পাওয়ার ১০০ হলে পাওয়ার ফ্যাক্টর এর মান হবে  Cosϴ=Real power/Apparent power
                      =
১০০/১০০
                      = ইউনিটি পাওয়ার ফ্যাক্টর

দেখা যাচ্ছে ইউনিটি বা একক পাওয়ার ফ্যাক্টরে পাওয়ার এর সর্বোচ্চ ব্যাবহার পাওয়া যাচ্ছে।
. পাওয়ার ফ্যাক্টরে ৮০পাওয়ারের ব্যাবহার পাওয়া যাচ্ছে। এবং বিশেষ একটি অংশ অপচয় হয়ে যাচ্ছে।
. পাওয়ার ফ্যাক্টরে ৬০পাওয়ারের ব্যাবহার পাওয়া যাচ্ছে। এবং বিশেষ একটি অংশ অপচয় হয়ে যাচ্ছে।
সুতরাং আমরা চাইব পাওয়ার ফ্যাক্টর এর মান ইউনিটি বা একক হোক বা কাছা কাছি হোক।

চলো এবার জেনে নেয়া যাককারা এই পাওয়ার ফ্যাক্টরের অবনতি ঘটিয়ে পাওয়ার এর সর্বোচ্চ ব্যাবহারকে বিঘ্নিত করছে।


ইলেকট্রিক্যাল লোড  প্রকার- রেজিস্টিভ লোড, ইন্ডাক্টিভ লোড, ক্যাপাসিটিভ লোড
 
ক্যাপাসেটিভ লোডে কারেন্ট লিডিং অর্থাৎ ভোল্টেজ থেকে কারেন্ট কিছু কোণে এগিয়ে থাকে,এই লোডে পাওয়ার লস হয়। উদাহরণ ক্যাপাসিটর

ইন্ডাক্টিভ লোডে কারেন্ট ল্যাগিং  থাকে অর্থাৎ ভোল্টেজ থেকে কারেন্ট কিছু কোণে পিছিয়ে থাকে,এই লোডেও পাওয়ার লস হয়। উদাহরণ ইলেক্ট্রিক্যাল মোটর

ক্যাপাসেটিভ লোড এবং ইন্ডাক্টিভ লোডের ধর্ম হলো চার্জ ধরে রাখা এবং এই চার্জ আমরা ব্যবহার করতে পারি না।

রেজিস্টিভ লোডে কোন অনাকাঙ্ক্ষিত পাওয়ার লস নেই বললেই চলে।কারন এই লোডে ভোল্টেজ এবং কারেন্ট একই আঙ্গেল থাকে। সম্পুর্ন পাওয়ারই ব্যাবহার হয়।


অতিরিক্ত ইডাক্টিভ লোড যেমন ভালোনা তেমনি অতিরিক্ত ক্যাপাসিটিভ লোডও ভালোনা উভয়ই প্রকৃত পাওয়ার ব্যাবহারকে বিঘ্নিত করে।


"ধরো তুমি টক বরই খাবে তাহলে কিছুটা লবন মিশ্রিত করে খাওয়ার জন্য আনন্দদায়ক করে নিলে।
অতিরিক্ত টক হলে যেমন খেতে পারবেনাঠিক তেমনি অতিরিক্ত লবণাক্ত হলেও খেতে পারবেনা।
নির্দিষ্ট পরিমান লবন মিশ্রিত করতে পারলে বরই সরবোচ্চ পরিমান খেতে পারবে।"

ঠিক তেমনি পাওয়ার সিস্টেমে ইডাক্টিভ লোড এর ল্যাগিং অবস্থা দূর করতে নির্দিষ্ট পরিমান ক্যাপাসিটিভ লোড সংযুক্ত করে পাওয়ার ফ্যাক্টর এর উন্নয়ন ঘটিয়েপাওয়ার এর সর্বোচ্চ ব্যাবহার নিশ্চিত করা হয়।
ইন্ডাক্টিভ রিয়্যাক্ট্যান্স  ক্যাপাসিটিভ রিয়্যাক্ট্যান্স এর মান সমান হলে সার্কিটটি রেজিস্টিভ সার্কিট এর ন্যায় আচরন করে। 

 


পাওয়ার ফ্যাক্টর তিন প্রকার৷যথা
1) ল্যাগিং পাওয়ার ফ্যাক্টর (Lagging Power Factor) 

2) লিডিং পাওয়ার ফ্যাক্টর (Leading Power Factor) 

3)ইউনিটি পাওয়ার ফ্যাক্টর (Unity Power Factor)

 

ল্যাগিং পাওয়ার ফ্যাক্টরএসিসার্কিটে ক্যাপাসিটিভ লোডের চেয়ে ইন্ডাকটিভ লোড বেশী হলেকারেন্ট ভোল্টেজের পরে অবস্থান করেসার্কিটের এই অবস্থায় পাওয়ার ফ্যাক্টরকে ল্যাগিং পাওয়ার ফ্যাক্টর বলে।
 

লিডিং পাওয়ার ফ্যাক্টর : সি সার্কিটে ইন্ডাকটিভ লোডের চেয়ে ক্যাপাসিটিভ লোড বেশী হলেভোল্টেজ কারেন্টের পরে অবস্থান করেসার্কিটের এই অবস্থায় পাওয়ার ফ্যাক্টরকে লিডিং পাওয়ার ফ্যাক্টর বলে।
 

ইউনিটি পাওয়ার ফ্যাক্টর.সি সার্কিটে ইন্ডাকটিভ লোড  ক্যাপাসিটিভ লোড সমান হলেভোল্টেজ  কারেন্ট একসাথে অবস্থান করেসার্কিটের এই অবস্থায় পাওয়ার ফ্যাক্টরকে ইউনিটি পাওয়ার ফ্যাক্টর বলে।

  

 

ল্যাগিং বা লিডিং পাওয়ার ফ্যাক্টরে রিয়্যাক্টিভ পাওয়ারের পরিমান বেড়ে যায় এবং প্রকৃত ব্যাবহৃত পাওয়ার এর পরিমান কমে যায়। যা বিদ্যুৎ বিতরন প্রতিষ্টানের জন্য লস। কারন বিতরন প্রতিষ্ঠান ব্যাবহৃত পাওয়ারের জন্য বিল গ্রহন করছে অথচ এই গ্রাহক ইন্ডাক্টিভ লোড ব্যাবহার করে পাওয়ার ফ্যাক্টরের অবনতি ঘটিয়ে সিস্টেম এর স্বাভাবিকতাকে বিঘ্নিত করছে।
তাই বিদ্যুৎ বিতরন প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের একটা বিশেষ চার্জ নির্ধারণ করে দেয়  তবে গ্রাহক যদি ক্যাপাসিটর ব্যাংক ব্যাবহার করান তবে পাওয়ার ফ্যাক্টরের উন্নয়ন ঘটবে।

এই ব্লগে কিছু মজার উদহরন দিয়ে পাওয়ার ফ্যাক্টরের বিষয়টিকে সহজভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করলাম। পাওয়ার ফ্যাক্টর ইমপ্রুপমেন্ট এর বিষয়টি ইলেকট্রিক্যাল ল্যাবে পর্যবেক্ষন করতে পারো।

 

নাহিদুল ইসলাম (নাহিদ)

ইন্সট্রাক্টর

ডিপার্টমেন্ট অব ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং

ড্যাফোডিল পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট

Comments

Sign in to comment