বাষ্প বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভেতরের কথা

বিদ্যুৎ উৎপাদন এর জন্য জেনারেটর এর কয়েলকে চুম্বকক্ষেত্রের মাঝে ঘোরাতে হবে। কয়েল ঘুরাতে টারবাইন বা পাখা ঘুরানো আবশ্যক। টারবাইনকে ঘুরাতে পারলেই টারবাইনের সাথে কাপলিং করা জেনারেটর এর কয়েলও ঘুরবে। টারবাইনকে বাষ্পের চাপে যদি পরিচালনা করা হয় তবে সেই পাওয়ার প্লান্টকে বাষ্প বিদ্যুৎ কেন্দ্র বলে।
আজ বাস্প বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যাপারে তোমাদের একটি সরল ধারনা দিতে যাচ্ছি,


ধরো তোমার কাছে ভাত রান্না করার একটি পাতিল আছে। পানিদ্বারা পাতিলটিকে পূর্ন করে ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দাও। ঢাকনার উপরে ছোট ছিদ্র করে একটি স্বচ্ছ পাইপ জুরে দাও। পাইপে একটি ছোট চর্কি বা ব্লেডযুক্ত পাখা বসাও, যাতে পাখাটি অনায়াসে ঘুরতে পারে। এবার পানিপূর্ন পাতিলটিকে আগুনের চুলায় বসিয়ে দাও কিছুক্ষন পর দেখতে পাবে পাইপ দিয়ে বাষ্প বেড়িয়ে আসছে, সেই সাথে বাস্পের চাপে পাইপে থাকা চর্কিটি ঘুরতে শুরু করেছে।

স্টিম পাওয়ার প্লান্টে একধরনের বয়লার ইউজ করা হয়, বয়লারে জ্বালানী দিলে, এই বয়লার পানিকে বাষ্পে পরিনত করে, এবং বাষ্পের চাপে টারবাইন ঘুরানো হয়। এই বাষ্প তৈরির জন্য যে তাপ প্রয়োজন তা আমরা কয়লা থেকে গ্রহন করতে পারি। নিউক্লিয়ার বিক্রিয়ার মাধ্যমেও পেতে পারি।
ইকুনোম্যাক্যালি বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য রিহিটার, সুপার হিটার, এয়ার প্রি হিটার, স্টিম এবজর্ভার,ওয়াটার ট্রিটমেন্ট চেম্বার,ইকুনোমাইজার এবং বিশেষ ধরনের বয়লার ইউজ করা হয়।

নদী থেকে পানি নিয়ে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট চেম্বারের মাধ্যমে পানিকে শোধন করে ফিড ওয়াটার পাম্পের মাধ্যমে বয়লারে পানি প্রবেশ করানো হয়।বয়লারে জ্বালানীর জ্বলনের পর ফ্লু গ্যাস চিমনি দিয়ে বেড়িয়ে যায়। ফ্লু গ্যাস বেড়িয়ে যাওয়ার সময় সুপার হিটার, ইকুনোমাইজার এয়ার প্রি-হিটারে তাপ প্রয়োগ করে। ইকোনোমাইজার ফ্লু গ্যাস থেকে তাপ গ্রহণ করে ফিড ওয়াটারকে প্রাথমিকভাবে কিছুটা গরম করে বয়লারে প্রেরন করে ফলে বয়লারের পারফর্মেন্স বহুগুন বৃদ্ধি পায়। বয়লার জ্বালানীর সহায়তায় পানিকে বাস্পে পরিণত করে, এই বাষ্প, পাইপ দিয়ে টারবাইনের দিকে প্রবাহিত হয়, ফলে টারবাইন ঘুরে। টারবাইনকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য এবং অধিক পারফর্মেন্স এর কথা চিন্তা করে বয়লার এবং টারবাইনের মাঝখানে সুপার হিটার ইউজ করা হয়। এই সুপার হিটার বাস্পে থাকা জলকনাকে উত্তপ্ত করে সম্পুর্ন বাষ্পে রুপান্তরিত করে।

টারবাইনকে ঘুরানোর কাজ সম্পন্ন করে বাস্প বেরিয়ে আসে স্টিম এবজর্ভারে, এই স্টিমকে কোল করে কম্প্রেস করে পুনরায় ফিডওয়াটার পাম্পের মাধ্যনে বয়লারে প্রেরন করা হয়। পুন:পুন এই কাজ চলতে থাকে। টারবাইন অবিরাম ঘুরতে থাকে।
টারবাইনের সাথে কাপলিং করা জেনারেটর ফ্যারাডের সুত্রানুযায়ী ভোল্টেজ উৎপন্ন করে। যা বাসবারের মাধ্যমে সাবস্টেশনে উপস্থিত হয়।

বায়ু বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বাতাসের বেগকে কাজে লাগিয়ে পাখা ঘোরানো হয়। যেমন ছোট বেলায় মেলা থেকে চরকি কিনে বাতাসের দিকে ধরে রেখে ঘোরিয়েছ।

মুলত যে কোন উপায়ে জেনারেটরের এই ভাড়ী কয়েলকে ঘুরাতে পারলেই বিদ্যুৎ উৎপন্ন হবে।
পাওয়ার প্লান্ট সম্পর্কে ভাল জানতে প্রিন্সিপাল অব পাওয়ার সিস্টেম বইটি পড়তে পারো।
তোমাদের কৌতুহলী মন উদ্ভাবনের নেশায় মত্ত হোক। সবার জন্য রইল ভালবাসা আর শুভ কামনা।

 

লেখক:-

 

নাহিদুল ইসলাম (নাহিদ)

ইন্সট্রাকটর

ডিপার্টমেন্ট অব ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং

ড্যাফোডিল পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট

Comments

Sign in to comment