ইয়ার্নের শ্রেণিবিন্যাস

ইয়ার্নের উৎস হল ফাইবার বা আঁশ। এই ফাইবারগুলো আবার নানা রকম উৎস হতে আসে যার উপর ভিত্তি করে ইয়ার্নের শ্রেণিবিন্যাস যেমনপ্রাকৃতিক এবং কৃত্রিম। প্রকৃতিগতভাবে ফাইবারগুলো প্রধানত: উদ্ভিদ এবং প্রাণি হতে আসে। যেমন ধরুনকটন ফাইবার উদ্ভিদজাত উৎস হতে আসে। আবার উল ফাইবার প্রাণিজ উৎস হতে আসে। অন্যান্য প্রকৃতিক ফাইবারের মধ্যে রেয়নসিল্কহেম্পলিনেনপাট ইত্যাদি বহুল ব্যবহার্য হিসাবে আমরা দেখে থাকি। আবার সিনথেটিক বা কৃত্রিম ফাইবারের প্রধান উৎস হল বিভিন্ন প্রকার কেমিক্যালস বা রাসায়নিক দ্রবাদি। সিনথেটিক ফাইবারের সবচেয়ে ভাল উদাহারণ হল নাইলন এবং পলিস্টার ।

কিভাবে ইয়ার্ন তৈরি করা হয়?

ইয়ার্ন প্রকারভেদ বা বিভিন্ন সুতার নাম অনুযায়ি বিভিন্ন সুতার উৎপাদন প্রক্রিয়া বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। ইয়ার্ন কিভাবে তৈরি হয় তা জানার আগে চলুন জেনে নেওয়া যাক ইয়ার্ন সম্পর্কেইয়ার্ন কাকে বলে এবং কিভাবে তৈরি হয়। টেক্সটাইল জগতের উৎপাদন চেইনের প্রথম ধাপ হচ্ছে ফাইবার। তার পরের ধাপই হল ইয়ার্ন। এই ইয়ার্নকে বুনন বা উইভিং এর মাধ্যমেই কাপড় বা ফেব্রিক তৈরি হয়। ইয়ার্ন একাধিক ফাইবারের সমন্বয়ে গঠিত যা ‍স্পিনিং প্রযুক্তির মাধ্যমে এর মাধ্যমে তৈরি করা হয়। আবার দুই বা ততোধিক ইয়ার্ন এর সমন্বয়েই সুতা তৈরি হয় যা বিভিন্ন প্রকার সেলাই কার্যে ব্যবহৃত হয়।

 

বিভিন্ন ধরনের ইয়ার্নের নাম:

১। লিনেন ইয়ার্ন: লিনেন সুতা খুব শক্ত প্রকৃতির হয়। ইহা সাধারনত: গার্মেন্টস শিল্পে ব্যবহৃত হয়।

২। সিল্ক ইয়ার্ন: এই ধরনের সুতা সিল্কের চলমান এবং ভেঙ্গে যাওয়া উভয় ফিলামেন্ট থেকে তৈরি করা হয়। সিল্ক সুতা অধিকতর শক্ত এবং উন্নতমানের সুতা।

৩। কটন সুতা: ইহা আবার তিন প্রকারের যথা:

  •  নরম কটন সুতা
  • মারসেরাইজড কটন সুতা
  • গ্লেইজড কটন সুতা

৪। পলিস্টার সুতা: এই সুতা কম দামী এবং শক্ত প্রকারের হয়ে থাকে। পলিস্টার সুতা দামে কম হওয়ার জন্য খুব বেশী পরিমানে ব্যবহৃত হয়।

৫। নাইলন সুতা : নাইলন সুতা হল ঐ সব সুতার মধ্যে অন্যতম যা ঘরের কাজে এবং বানিজ্যিক ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। নাইলন সুতা খুব শক্ত এবং টেকসই হয়। নাইলন সুতা এক ধরনের সিনথেটিক সুতা যার প্রচলন ১৯৪০ সাল থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে শুরু হয়। নাইলন সুতা হালকামসৃন এবং ইহা পানি শোষন করতে পারে না।

৬। রেয়ন সুতা : রেয়ন সুতার উৎপত্তি ফাইবার থেকে হওয়া সত্ত্বেও ইহা উৎপাদনে রাসায়নিক প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হয় বিধায় রেয়ন সুতাকে পুরোপুরিভাবে প্রকৃতিজাত সুতা হিসাবে ধরা হয়না। এমব্রয়ডারি কাজে সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং বহুল ব্যবহৃত সুতার নাম হল রেয়ন সুতা। রেয়ন সুতা উচ্চগতি সম্পন্ন এমব্রয়ডারি মেশিনে খুব ফলপ্রসু হিসাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। উচ্চগতির এমব্রয়ডারি মেশিনে ব্যবহারের সময় রেয়ন সুতার ছিড়ে যাওয়ার হার অন্যান্য সুতার তুলনায় অনেক কম। রেয়ন সুতার দাম কম হওয়ায় ইহা সিল্ক সুতার বিকল্প হিসাবে ব্যবহৃত হয়।

৭। উলেন সুতা : সাধারন অর্থে উলেন সুতা হল ঐ সব সুতার অন্তর্ভূক্ত প্রাণির লোম থেকে উৎপাদন করা হয়। উলেন সুতা উলের একাধিক ফাইবারের সমন্বয়ে তৈরি করা হয়। উলেন সুতা বিভিন্ন শীতের পোশাক ও কম্বল তৈরির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া এমব্রয়ডারি শিল্পে উলেন সুতার সবচেয়ে বেশী ব্যবহার লক্ষ করা যায়।

সুতা কত প্রকার ও কি কি এবং সুতার ব্যবহার:

বিভিন্ন সুতার নাম এবং সুতা কত প্রকার বিষয়টি অনেকটা একই রকম মনে হতে পারে। কিন্তু সুতা কত প্রকার বলতে মুলত বুঝানো হচ্ছে সুতার টাইপ বা ধরন কি কি। গঠন কৌশলের উপর ভিত্তি করে সুতা কয়েক প্রকারের হতে পারেযেমন:

Spun Thread: এই ধরনের সুতা প্রাকৃতিক এবং সিনথেটিক উভয় প্রকার ফাইবার থেকেই তৈরি করা যায়। সবচেয়ে বেশী ব্যবহৃত Spun Thread সুতার উদাহারন হল পলিস্টার ধরনের সুতা। এ ধরনের সুতা টেকসই এবং দির্ঘস্থায়ি হয়।

ব্যবহার: মহিলাদের ব্লাউজশিশু পোশাকজিন্স কাপড়শার্টআন্ডারওয়ারজ্যাকেট প্রভৃতি তৈরিতে ব্যবহার হয়।

Core Spun Thread: ইহাকে Industrial Thread বলা হয়। এ ধরনের সুতা Continuous Filament এবং Staple Fiber এর সংমিশ্রণে তৈরি হয়।

ব্যবহার: উপরোক্ত ব্যবহার ছাড়াও এ ধরনের সুতা ইউনিফর্ম এবং চামড়া জাতীয় পন্য তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

ফিলামেন্ট থ্রেড: এই ধরনের সুতা একক ফিলামেন্ট বা একাধিক ফিলামেন্টে Twisting প্রক্রিয়ায় তৈরি হয়। ফিলামেন্ট থ্রেড আবার নিম্নোক্ত তিন ধরনের হয়:

মনোফিলামেন্ট থ্রেড:

ব্যবহার: Hair wraps. Invisible seams, Flags, Upholstery প্রভৃতি তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

মাল্টি ফিলামেন্ট থ্রেড:

ব্যবহার: চামড়া জাতীয় পন্য, Footwear, লাগেজ প্রভৃতি তৈরিতে ব্যবহৃত হ য়।

বাল্ক ফিলামেন্ট বা Texturized Thread:

ব্যবহার: পুরুষ মহিলাদের প্রচলিত পোষাকখেলাধুলার পোশাক সামগ্রী ইত্যাদি এই ধরনে সুতা দিয়ে তৈরি হয় 

 

**তথ্য ও ছবি সংগ্রহ ঊইকিপিডিয়া, গুগল **

Comments

Sign in to comment